শিক্ষার্থীর মেধাকে প্রস্ফূটিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের -এডিসি আনোয়ারুল নাছের

ak azad school 24.03

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু, কক্সবাজারটাইমসডটকম: কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আনোয়ারুল নাছের বলেছেন, অতীতে বিদ্যালয় ভবনগুলো কাঁচা ছিলো, আর শিক্ষক ছিলো পাকা। আর এখনকার চিত্র ঠিক উল্টো। এভাবে চলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের মেধাকে প্রস্ফূটিত করার দায়িত্ব শিক্ষকের। সেই দায়িত্ব আরো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বিনামূল্যে ও যথাসময়ে বই বিতরণ সহ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষকদেরও আন্তরিক হতে হবে।
রামু উপজেলার দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চাইল্যাতলী একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহষ্পতিবার বিকাল তিনটায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের কক্সবাজার সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আবুল কালাম আজাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে এলাকায় শিক্ষা প্রসারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনগ্রসর জনপদে শিক্ষার প্রসারে আবুল কালাম আজাদের নাম মানুষের মাঝে আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
চাইল্যাতলী একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এডভোকেট আবুল আবুল মনসুর চৌধুরী, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা কাজী, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর, কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এডভোকেট আবুল আবুল মনসুর চৌধুরী বলেন, বাঙ্গালীরা বাঘের মতো ধরে আর ছেড়ে দেয় পাখির মতো। কিন্তু চাইল্যাতলী এ.কে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম আজাদ বিদ্যালয়টিকে শুরুতে যেমন বাঘের মতো ধরেছিলেন। এখনো বাঘের মতো আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। যে কারনে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তিনি বলেন, উদ্যোমী যুবক আবুল কালাম আজাদ এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে কেবল চাইল্যাতলী বা দক্ষিন মিঠাছড়ির মানুষকে নয়, পুরো রামুবাসীকে গৌরবান্বিত করেছেন। এখন এলাকাবাসির উচিত এ বিদ্যালয়টিকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে আবুল কালাম আজাদকে সম্মানিত করা। কারণ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেই এলাকা আলোকিত হয় না। অভিভাবকদের প্রচেষ্টাও সুশিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে রামু প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, পানের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন আহমদ, নিজের পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌলানা আমান উল্লাহ, ইউপি সদস্য মো. ওসমান, দক্ষিন মিঠাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল হোছাইন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের হাতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অতিথিদের উপস্থিতিতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে সকল অতিথিবৃন্দ স্ব-স্ব উদ্যোগ বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইয়াছমিন আকতার, আবু বক্কর ছিদ্দিক, মো. সিরাজুল ইসলাম, জয়সেন ধর, রিদুয়ানুল হক, আবদুর রহিম, এরশাদ উল্লাহ, সাবিনা ইয়াছমিন, সাফিয়া আকতার সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তুরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like