উখিয়ার হলদিয়ায় সাত মাসেও একটি বিদ্যুৎ লাইনের সাড়া মিলছে না

biddut lin-22.03বিশেষ প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ২২ মার্চ: স্থানীয় এমপির ডিও লেটার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশ সহ ২০ টি সেচ পাম্প, একটি খালের পাম্প, একটি রাইচ মিল সহ বালুছড়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ পরিবারের জন্য নতুন বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের আবেদন করার দীর্ঘ ৭ মাসেও পল্লী বিদ্যুতের লাইন মিলেনি। উপরন্ত নানা ছল চাতুরির আশ্রয় নিয়ে উল্টো হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে জনগুরুত্ব সম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনটির জন্য তদবিরকারিদের।
পল্লী বিদ্যুতের এই গুরুত্বপূর্ণ লাইনটি স্থাপনের আবেদন করা হয় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাবাড়ী সাহাব মিয়া হাজীর রাইচ মিল থেকে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ীর বিদ্যুৎ লাইন। এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় কৃষি কাজেও বিঘœ ঘটছে। তদুপরি শতাধিক পরিবারের লোকজনও বঞ্চিত হচ্ছে বৈদ্যুতিক আলোর নানা সুযোগ সুবিধা থেকেও।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন শাখা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জালাল উদ্দিন এলাকাবাসীর পক্ষে গত বছরের ১৬ আগষ্ট বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের আবদেনটি দিয়েছিলেন। সেই আবেদনটিতে এলাকার জনগুরুত্বের বিষয়টি নিয়ে সুপারিশ করেন এলাকার এমপি আবদুর রহমান বদি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট একে আহমদ হোছাইন, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী সহ এলাকার অনেক গন্যমান্য ব্যক্তি।
এমনকি এলাকার খেওয়াছড়ি খালের এল.এল.পি স্কীম সহ আরো ২০ টি সেচ পাম্পের চাষাবাদের বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় এমপি এ বিষয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর একটি ডিও লে-টারও ইস্যু করে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে প্রেরণ করেন। সেই থেকে এলাকাবাসীর পক্ষে কৃষক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে শুরু করেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ- ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে আমার আবেদনের যথেষ্ট সাড়া দিয়েছিলেন। তারা যথারীতি কাজও করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু দুর্গম এলাকাটি আলোকিত করার ব্যাপারে পরবর্তীতে এক রহস্যজনক কারনে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পিছু হটে যায়।’
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন- ‘আমার যথেষ্ট সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে পল্লী বিদ্যুতের অভ্যন্তরে কতিপয় নেতিবাচক মানসিকতার লোকজন কাজ করছেন, যারা কিনা সরকারের চলমান উন্নয়নকে পছন্দ করেন না। এ কারনে তারা আমি তদবিরকারিকে এখন দেখলে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন।’
জাহাঙ্গীর শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী সহ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নজরে আনার লক্ষ্যে আবেদন প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like