লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। নড়বড়ে শুরুর পর দল ১৫৫ রানের পুঁজি পেয়েছিল মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত এক ইনিংসে। তাতে লড়াই করা গেছে। কিন্তু আটকানো যায়নি অস্ট্রেলিয়াকে, জিতেছে তারা ৯ বল বাকি রেখে।

পেটের পীড়ায় এই ম্যাচ খেলতে পারেনি তামিম ইকবাল। টস ভাগ্য ফেরেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার, টানা সপ্তমবার হারলেন তিনি। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রায় অর্ধেক জুড়ে ধুঁকেছে বাংলাদেশ। একটা সময় মনে হচ্ছিলো রান থাকবে ১২০-১৩০-এর আশেপাশে। সেখান থেকে মাহমুদউল্লার দৃষ্টিনন্দন কিন্তু ঝড়ো এক ইনিংসে রান পেরোয় দেড়শ’।

রান তাড়ার জন্য আদর্শ এই মাঠে রানটা ছিল বেশ কম। বোলাররা চেষ্টা করেছে। ফেরার ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমান চিনিয়েছেন জাত, ভুগিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের। শেষ দিকে টপাটপ উইকেট নিলেন সাকিব আল হাসানও। কিন্তু জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না এসব।

দুটি ক্যাচ ফেলেছে বাংলাদেশ। ১৩ রানে মিঠুনের হাতে জীবন পেয়েছেন শেন ওয়াটসন। তবে ততক্ষণে ৬ ওভারে ৫১ তুলে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে জন হেস্টিংসের ক্যাচ ফেলেছেন আল আমিন; তবে জয় তখন সময়ের ব্যাপার।

রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৭ ওভারে ৬১ রান তোলেন উসমান খাওয়াজা ও ওয়াটসন।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা খাওয়াজার ইনিংসটাই জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ৪৫ বলে ৫৮ রান করে আল আমিনের বলে রাউন্ড দ্য লেগ বোল্ড হন বাঁহাতি এই ওপেনার।

প্রথম স্পেলে উইকেটশূন্য মুস্তাফিজ ও সাকিব এরপর দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। স্টিভেন স্মিথকে ফুল লেংথ বলে বোল্ড করার পর মিচেল মার্শকে দারুণ এক কাটারে বোকা বানিয়েছেন মুস্তাফিজ। শেষ ২ ওভারে সাকিব নিয়েছেন ৩ উইকেট। কিন্তু শুরুটা এত ভালো ছিল যে পরে উইকেট হারিয়েও সমস্যা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। মুস্তাফিজের শেষ ওভারে ম্যাক্সওয়েলের দুটি ছক্কা অস্ট্রেলিয়ার ওপর থেকে উইকেট হারানোর চাপটুকু সরিয়ে দেয়।

অভিষেক ম্যাচে সাকলাইন সজিব ছিলেন বিবর্ণ। ৩.৩ ওভারে গুণেছেন ৪০ রান, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আলগা করেছেন ফাঁস। তবে দিন শেষে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের আর কিছু রান করতে না পারাই।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল যথারীতি সৌম্য সরকারকে হারিয়ে। বাঁহাতি এই ওপেনারের দু:সময় দীর্ঘায়িত হয়েছে আরও। প্রথম ওভারেই নাথান কোল্টার-নাইল নাড়িয়ে দিয়েছিলেন সৌম্যকে। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটি শেন ওয়াটসন করেছিলেন অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে। ছেড়ে দিলে ওয়াইড, সেটিই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাড়া করে ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচিং অনুশীলন করালেন সৌম্য (১)।

আরেক পাশে মোহাম্মদ মিঠুন তখনও খোলসবন্দি। শুরুতে ছন্দ পাচ্ছিলেন না সাব্বির রহমানও। জন হেস্টিংসকে দুটি চার মেরে অবশ্য ডানা মেলার চেষ্টা করলেন তিনি। কিন্তু তিনিও ওয়াটসনের শিকার। ডাউন দ্য উইকেটে খেলে ক্যাচ দিলেন মিড অনে।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে মাত্র ৩৩।

থিতু হওয়ার পর অবশ্য একটু হাত খোলেন মিঠুন। মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন মিচেল মার্শকে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ইনসাইড আউটে চার মারার পরের বলই গ্যালারিতে পাঠান সাকিব।

২৫ বলে ৩৭ রানের সম্ভাবনাময় জুটি বল হাতে নিয়েই ভাঙেন অ্যাডাম জ্যামপা। লেগ স্পিনারের শর্ট বল মিড উইকেট ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন মিঠুন (২৩)।

আগের দিন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া শুভাগত হোমকে বিস্ময়কর ভাবে পাঁচে নামিয়ে দেয় দল। হয়ত উদ্দেশ্য ছিল কিছু বড় শটে ইনিংসটাকে গতি দেওয়া। কিছুটা সময় নিয়ে নিজের কাজ শুরুও করেছিলেন শুভাগত। জ্যামপাকে আকাশ ছোঁয়া ছক্কার পর চার মারলেন দারুণ টাইমিংয়ে। জবাবটাও দ্রুতই দিয়েছেন জ্যামপা। দারুণ ফ্লিপারটির জবাব জানা ছিল না শুভাগতর (১৩)।

তরুণ লেগ স্পিনার পরে ফিরিয়ে দেন দারুণ খেলতে থাকা সাকিবকেও। একটু জায়গা বানিয়ে খেলতে চাওয়া সাকিব (২৫ বলে ৩৩) পেরে ওঠেননি জ্যামপার চাতুর্যের কাছে।

দিশেহারা দল পথের দেখা পায় মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। শুধু দলের রানই বাড়াননি, খেলেছেন দৃষ্টিনন্দন সব শট। হেস্টিংসের বাউন্সারের জবাব দিয়েছেন ফ্রন্টফুট পুলে ছক্কায়। স্লগ ওভারের অন্যতম সেরা বোলার জেমস ফকনারকেও ছেড়ে কথা বলেননি। শেষ দিকে সঙ্গটা খারাপ দেননি মুশফিকও। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ২৮ বলে ৫১। শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৪৪। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ২৯ বলে ৪৯ রানে।

রানটা ছিল লড়ার মতো; লড়াইটাই হলো, জেতা হলো না। টানা দ্বিতীয় হারে সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন সরে গেল আরও দূরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৬/৫ (মিঠুন ২৩, সৌম্য ১, সাব্বির ১২, সাকিব ৩৩, শুভাগত ১৩, মাহমুদউল্লাহ ৪৯*, মুশফিক ১৫*; জামপা ৩/২৩, ওয়াটসন ২/৩১)

অস্ট্রেলিয়া: ১৮.৩ ওভারে ১৫৭/৭ (খাওয়াজা ৫৮, ওয়াটসন ২১, স্মিথ ১৪, ওয়ার্নার ১৭, ম্যাক্সওয়েল ২৬, মার্শ ৬, ফকনার ৫*, হেস্টিংস ৩, নেভিল ১*; সাকিব ৩/২৭, মুস্তাফিজ ২/৩০, আল আমিন ১/১৪)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: অ্যাডাম জ্যামপা (অস্ট্রেলিয়া)

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like