খালেদার বক্তব্য বিকৃত হচ্ছে: ফখরুল

সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ‘বিকৃত করা হচ্ছে’।

“তার (খালেদা জিয়া) বক্তব্যের সময়ে তিনি যেটা বলেছিলেন, সরাসরি বলেছিলেন, এটা এইভাবে করলে ভালো হবে… আমরা আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে চাই। অর্থাৎ, নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকবে, সেটাই আমাদের চাওয়া।”

“সে সময়ে সেই নিরপেক্ষ সরকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন না। এটাই আমাদের আশা। অর্থাৎ, তিনি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। সেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে- এটাই তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন। তার বক্তব্যের এটাই মূল বিষয় ছিল।

শনিবার খালেদা জিয়া ওই কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে ‘শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচন হবে’ বলেছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসে।

ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হাসিনাবিহীন নির্বাচন বলতে খালেদা জিয়া কী বোঝাতে চাইছেন? ২১ অগাস্টের মতো আবার গ্রেনেড হামলা বা আবার হত্যার পরিকল্পনা করছে কি না? সেটাই হচ্ছে আমার প্রশ্ন।”

খালেদা জিয়া ‘নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের ঘোঁট পাকাচ্ছেন’ বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদার বক্তব্য “বিকৃত করে এখন ভিন্নভাবে প্রচার করাকে জনগণ ও জনমতকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা ছাড়া আমরা অন্য কিছুই মনে করছি না।”

ক্ষমতাসীন দল ও সরকারকে ‘এহেন অপচেষ্টা থেকে’ বিরত থাকারও আহবান জানান তিনি।

সরকারের মন্ত্রীরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘বিষোদগার’ করছেন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই চর্চা প্রতিহিংসা বাড়ায়, রাজনীতির পরিবেশকে বিনষ্ট করে।

“আমরা আশা করেছিলাম, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে অভিনন্দন জানাবেন। আমরা যে একটা সফল সম্মেলন করেছি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বেগবান করার জন্য, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, সেই প্রক্রিয়াকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাবেন।

“অথচ দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, তারা তো সেটা করেনইনি বরং ম্যাডামের একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে জাতিকে বিভ্রান্ত করবার জন্য এমন সব কথা বলেছেন, যা গণতন্ত্রকে আরো কণ্টকাকীর্ণ করছে।”

কাউন্সিলে খালেদা জিয়ার ‘প্রস্তাব’ মেনে সরকার ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনতে সব দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ফখরুলের।

“একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে মানুষ মতামত দিতে পারবে, ভোট প্রয়োগ করতে পারবে। সেই বিষয়টি সামনে নিয়ে তারা (সরকার) চিন্তা করবেন। কীভাবে এটাকে সামনে নিয়ে যাওয়া যায়, সকল দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তারা সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”

একুশ অগাস্ট গ্রেনেড মামলায় অভিযুক্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করে তার  বিরুদ্ধে ইন্টারপোল গতবছর এপ্রিলে যে ‘রেড নোটিস’ জারি করেছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে দাবি করে ফখরুল বলেন, “ইন্টারপোল তদন্ত করে দেখিয়েছে যে ওই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

এ বিষয়ে আর কোনো ‘বিতর্ক সৃষ্টি না করতে’ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

কাউন্সিলে ‘সহযোগিতার জন্য’ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ, পিডব্লিউডি, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সিপি করপোরেশন, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কতৃজ্ঞতা জানান মির্জা ফখরুল।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এজেড এম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like