এক ব্যক্তির এক পদ বিএনপিতে

এ বিধানের কারণে স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতারা অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

শনিবার রাতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কর্মঅধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

বরাবরের মতো কর্মঅধিবেশনে নতুন স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দিয়েছেন কাউন্সিলররা।

নতুন কমিটির নির্বাচনের পর্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রস্তাবে কাউন্সিলররা তাকে কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শনিবার সকালে জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধনের পর শুরু হয় বক্তৃতা পর্বে। এতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামীতে সরকার পরিচালনার রূপরেখা ‘ভিশন-২০৩০’ উপস্থাপন করেন। প্রচার করা হয় জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের তারেক রহমানের ভিডিও বার্তাও।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া কর্মঅধিবেশনটি চলে টানা পাঁচ ঘণ্টা। তিন হাজার কাউন্সিলরের জায়গা না হওয়ায় মিলনায়তনের বাইরেও তা সম্প্রসারণ করা হয়। সেখানে বড় পর্দার মাধ্যমে মিলনায়তনের ভেতরের অনুষ্ঠান দেখানো হয়।

কর্মঅধিবেশনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়াতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। গঠনতন্ত্র সংশোধনীর আরও বেশ কিছু প্রস্তাব অনুমোদন করেন কাউন্সিলররা।

এর মধ্যে আছে- ভাইস চেয়ারম্যান পদ ১৭টি থেকে ৩৫টিতে উন্নীতকরণ, বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তার অধীনে দুটি করে সহ-সম্পাদক পদ এবং বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি গঠন।

উপ-কমিটিগুলো হচ্ছে, অর্থ ও পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, শিল্প ও বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, নারী ও শিশু উন্নয়ন, যুব উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ, যোগাযোগ ও গণপরিবহন, এনার্জি ও খনিজ সম্পদ, মানবাধিকার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণ, সুশাসন ও জনপ্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় সংহতি ও এথনিক মাইনোরিটি।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাতটি সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক তিন জনের স্থলে চারজন সহ-সম্পাদক এবং প্রশিক্ষণ, পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক দুটি করে সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়া অর্থনীতি, জলবায়ু, প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা, বন ও পরিবেশ, স্বনির্ভর, তাঁতি বিষয়ক, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, বিজ্ঞান প্রযুক্তি, শিল্প ও বাণিজ্য, মানবাধিকার, উপজাতি বিষয়ক একটি করে সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক একটি সম্পাদকীয় ও একটি সহ-সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

গঠনতন্ত্র সংশোধনীতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কর্তব্য ধারায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তার সমুদয় দায়িত্ব পালনের বিধান সংযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া গঠনতন্ত্রে নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের অধীনে দলের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিতে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দলের সামগ্রিক সামর্থ্য বাড়ানোর একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দলের প্রচার কাজ জোরদার ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য একটি মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দলের চেয়ারপারসন স্বয়ং অথবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কার্য্ক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের ১৫ সদস্য রাখার বিধান তুলে বলা হয়েছে, তারা পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলের কাউন্সিলর হবেন।

গঠনতন্ত্র সংশোধন করে চাঁদার হার বৃদ্ধি ও নিয়মিত আদায় না করলে সদস্যপদ বাতিলের বিধান যোগ করা হয়েছে।

দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার পর তা উপস্থাপন করেন নজরুল ইসলাম খান।

ঘোষণাপত্রে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির প্রতিষ্ঠার তারিখ যোগ করা হবে। একইসঙ্গে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি সংযুক্ত করা হবে।

অধিবেশনের শুরুতে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন সরকার ৬ মার্চের ঘোষিত ফলের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

পরে তিনি সভাপতির আসনে থাকা আগামী তিন বছরের জন্য পুনরায় নির্বাচিত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (লন্ডনে অবস্থানরত) অভিনন্দন জানান।

এরপর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রতিবেদনের ওপর মুক্ত আলোচনায় ১৬ জন অংশ নেন।

তারা হলেন- যুব দলের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিলেটের আলী আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনোয়ার হোসেন, জয়পুরহাটের মোজাহার আলী প্রধান, নাটোরের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন, বরিশালের বিলকিস শিরিন, আখন্দ কুদ্দুসুর রহমান, মুন্সিগঞ্জের মনিরুল হক মনি, কুষ্টিয়ার গোলাম মোহাম্মদ, ঠাকুরগাঁওয়ের তৈয়মুর রহমান, নোয়াখালীর আনোয়ারুল হক কামাল, রাঙামাটির মামুনুর রশীদ মামুন, গাজীপুরের হুমায়ুন কবীর, নওগাঁর আবু বকর সিদ্দিকী ও দিনাজপুরের মঞ্জুরুল ইসলাম।

কর্মঅধিবেশন পরিচালনা করেন রুহুল কবির রিজভী। পরে খালেদা জিয়াসহ কাউন্সিলরা সেখানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনপির সর্বশেষ পঞ্চম কাউন্সিল হয়েছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। তিন বছর পর পর কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও এবার তার দ্বিগুণ সময় পর হল দলটির কাউন্সিল।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like