ইউপি নির্বাচন : প্রচারণা বন্ধ রোববার, নামছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

U_P_Election_760734473বাংলানিউজ : ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে রোববার (২০ মার্চ) থেকেই মাঠে নামছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক্ষেত্রে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ২ লাখ ফোর্স মাঠে থাকবে।

আবার রোববার মধ্যরাত ১২টা থেকেই বন্ধ হচ্ছে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী মঙ্গলবার (২২ মার্চ)।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটকেন্দ্র রয়েছে। যেখানে সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ভেদে ১৭ থেকে ২০ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এক্ষেত্রে কেবল ভোটের দিনই প্রায় দেড় লাখ ফোর্স ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া রোববার থেকে ভোটের পরের দিন বুধবার পর্যন্ত মোট চারদিনের জন্য মাঠে থাকবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ডের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

ইসি’র ফোর্স মোতায়েনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে ৭২১টি মোবাইল ফোর্স ও প্রতি তিন ইউপির জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি উপজেলায় ২টি করে র‌্যাবের মোবাইল টিম ও ১টি স্ট্রাইকিং টিম এবং প্রতি উপজেলায় ২ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল ও ১ প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকছে। আবার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতি উপজেলার জন্য কোস্টগার্ডের ২ প্লাটুন মোবাইল ফোর্স ও এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে। যারা ভোটের দু’দিন আগে থেকে পরে একদিন মোট চারদিনের জন্য নিয়োজিত থাকবে।

এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে ফোর্স মোতায়েনের এ সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে।

ইসি’র উপ-সচিব মো. সামসুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা একটা পরিকল্পনা করে দিয়েছি। এক্ষেত্রে রোববার থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। তারা ভোটের পরের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। তবে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুসারে কোথাও বেশি আবার কোথাও কম ফোর্স মোতায়েন করতে পারে। সব মিলিয়ে ফোর্স থাকছে প্রায় ২ লাখ।

এদিকে রোববার থেকে প্রতি উপজেলায় একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে থাকবেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মুভ করবেন। এক্ষেত্রে যেকোনো নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে তারা শাস্তি প্রদান করতে পারবেন।

এদিকে ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে সীমিত আকারে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও এবার তারা নামছে না। তবে সেনাবাহিনী মাঠে না থাকলেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন।

প্রচারণা বন্ধ
নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের যেকোনো নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করার বিধান রয়েছেন। আগামী ২২ মার্চ সকাল ৮টা থেকে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এর ৩২ ঘন্টা আগে বলতে ২০ মার্চ মধ্যরাত ১২টাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ রোববার মধ্যরাত ১২টার আগেই সকল ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

এবার দেশের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নির্বাচন উপযোগী ইউপিগুলোতে মোট ছয় ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছ ইসি। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬শ’ কোটি টাকা। এর দুই-তৃতীয়াংশ ব্যয় হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like