মায়ানমারে পাচার ১৩ মারমা তরুণীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে

নিউজ ডেস্ক: রোয়াংছড়ি উপজেলাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রাম থেকে মিয়ানমারে পাচার হওয়া ১৩ মারমা তরুণীকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ তরুণী ও ২ নারী দালাল রয়েছে।

শনিবার মিয়ানমারের নাইংসাদং সীমান্তের ওপার থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের এপারে তুলাতলী সীমান্ত হয়ে প্রবেশ করেছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীরা হলেন- হ্লা সুই প্রু মারমা, সোজো মারমা, পাইনুচিং মারমা, সিং দাইংউ মারমা, থুইয়ো মারমা, ম্যামাচিং মারমা, ম্যংজাই মারমা, ম্য চিংনু মারমা, নুন যে ক্রো মারমা, মে থুই চিং মারমা ও সানুচিং মারমা। তাদের সবার বয়স ১১ থেকে ১৯ বছর। তাদের সবার বাড়ি জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

গত জানুয়ারি মাসে বান্দরবানের রোয়াংছড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের অনাথ আশ্রমে রাখার কথা বলে প্রথমে রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যায়। পরে পাচারকারীরা সেখান থেকে মিয়ানমারে পাচার করে দেয়। এ ঘটনায় মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উঃ স্বিরি ভিক্ষুকে গেল শুক্রবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১১ মার্চ জেলার রোয়াংছড়ি থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হলে বান্দরবান ডিবি পুলিশ মিয়ানমারের মংণ্ডু শহরতলীর কাছে নেজাদো মন্দির থেকে তাদের উদ্ধার করে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির উলুবুনিয়া সীমান্ত দিয়ে শনিবার দুপুরে বান্দরবানে নিয়ে আসা হয়।

পাচার হওয়া তরুণীরা জানায়, তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। ওই তরুণীদের জানুয়ারি মাসে রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ বিহার থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের নামে পাঠিয়ে দেয়া হয় মিয়ানমারে। তাদের পুলিশের একটি বিশেষ টিম বান্দরবানে আনা হয়েছে বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছে পুলিশ দলের এক সদস্য।

বান্দরবান ডিবির ওসি মনজুর আলম বলেন, ‘তিনদিন টেকনাফের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় এই ১১ তরুণীকে। সঙ্গে পাচার কাজে জড়িত অভিযোগে নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা উচথোয়াই মারমাকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বান্দরবানে পৌঁছার পর ১১ তরুণীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like