বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল আজ

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল আজ শনিবার। দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ কাউন্সিল। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ও চত্বর কাউন্সিলের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করছে দলটি। এছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ বিশেষও (ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন)।

বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শনিবার সকালে কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং বিকেল ৩টায় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন খালেদা জিয়া।

দলটির নেতাকর্মীদের আশা, এ কাউন্সিল থেকে জাতীয় ঐক্যের ডাক আসবে। এছাড়া দলটি এ জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করবে।

এবারের কাউন্সিলের স্লোগান হচ্ছে-‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ।’ তবে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও (জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস) আলাদা আলাদা স্লোগান ঠিক করেছে। নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করেছে তারা। কাউন্সিলের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘মুক্ত করবই গণতন্ত্র’।

কাউন্সিল সফলে একটি মূল কমিটির বাইরে ১১টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এই উপ-কমিটিগুলো ইতোমধ্যে কাউন্সিলের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরবরাহ করা হয়েছে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটস কার্ড।

কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কাউন্সিলের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কাউন্সিলকে সফল করতে গঠিত সকল উপ-কমিটি তাদের কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করেছে। সব মিলিয়ে শনিবারের জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ৮ থেকে ৯ হাজার ডেলিগেটস কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসরা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত নেতারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ডেলিগেটস ও কাউন্সিলর কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির সর্বশেষ পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর জানুয়ারিতে গঠন করা হয় ৩৮৬ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি।

তিন বছর মেয়াদী কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এর আগে, দুই দফা কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল হয়। দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আর এর আট বছর পর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর চতুর্থ কাউন্সিল করে বিএনপি।

বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দলের চেয়ারপারসন পদে বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান আগামী তিন বছরের জন্য বিনা প্রতিন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কাউন্সিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে পারেন সদ্যনির্বাচিত দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে গত কাউন্সিলের মতো এবারও সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। লন্ডন থেকে ভিডিও বার্তায় তিনি দলের জন্য দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।

কাউন্সিলে আগত ডেলিগেটসদের বসার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করা হবে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কাউন্সিল ও সম্মেলনে বিদেশি মেহমান, সাংবাদিক, কাউন্সিলর, ডেলিগেটস ও নেতাকর্মীরা আসবেন। তাদের অধিকাংশের গাড়ি রয়েছে। এতো গাড়ি রাখার জায়গা তো দরকার। রাস্তায় রাখলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘ডেলিগেটসদের বসার ব্যবস্থা করা এবং ডেলিগেটস ও নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের গাড়ি রাখাসহ অন্যান্য কাজে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করা হবে। আর শিখা চিরন্তনের গেটটি ব্যবহার করা হবে তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য।’

এদিকে, মাঝ রাতের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে কাউন্সিলের আয়োজক কমিটি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরের ওপরে ত্রিপল (বৃষ্টি প্রতিরোধক) না দিয়ে শুধু সামিয়ানা টাঙানোয় বৃষ্টির পানি চত্বরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like