হাসিনা-মোদি ভিডিও কনফারেন্স ২৩ মার্চ

Hasina_Modi1458220801রাইজিংবিডি:  ভারতের ত্রিপুরা থেকে একশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। চলতি মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে  আসবে ভারতের এই বিদ্যুৎ।

একইভাবে বাংলাদেশ প্রতিবেশি দেশটির কাছে দশ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করতে যাচ্ছে। চলতি মাস থেকেই তা কার্যকর হচ্ছে। কম খরচে ভারতের সাত অঙ্গরাজ্য বাংলাদেশের এই ইন্টারনেট সেবা পাবে।

বিদ্যুৎ আমদানি ও ব্যান্ডউইথ রপ্তানীর মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লীর মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত সুচনা হতে যাচ্ছে।

আগামী ২৩ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ওইদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবনে সকাল সাড়ে ১০টায় এই ভিডিও কনফারেন্স ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এজন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মোদি ও হাসিনার ভিডিও কনফারেন্স এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শওকত মোস্তফা রাইজিংবিডিকে জানান, ২৩ মার্চ আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ভারত থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতের কাছে ১০জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয় দেখছে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

গত বছরের ৬ জুন বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতের ত্রিপুরা থেকে একশ মিগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে দশ জিবি ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অব্যবহৃত কোটা থেকে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ভারতর কাছে রপ্তানি করছে। এতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিমাসে আয় করবে ৮০ লাখ টাকা। এখাতে বছরে আয় হবে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে সাবমেরিন ক্যাবলের এমডি মনোয়ার হোসেন রাইজিংবিডিকে জানান, ২৩ মার্চ ব্যান্ডউইথ রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও গতমাস (ফেব্রুয়ারি) থেকে বিল কার্যকর হবে। আমরা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিল করতে পারবো।

তিনি বলেন, চেন্নাই ও মুম্বাই থেকে ভারতের সাতটি সেভেন সিস্টারস এর অবস্থান অনেক দূরে। অন্যদিকে এসব রাজ্য তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ থেকে কাছে। চেন্নাই ও মুম্বাই হয়ে ইন্টারনেট সেবা পেতে যে টাকা খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচে বেশি ইন্টারনেট সেবা বাংলাদেশ থেকে পাবে ভারত। এজন্য তারা আমাদের কাছ থেকে ১০ জিবি ব্যান্ডউইথ আমদানিরর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে যে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করছে তা ব্যবহৃত হবে সে দেশের সাত রাজ্যে। অর্থ্যাৎ ত্রিপুরা, অরুনাচল, মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে ইন্টারনেট সংযোগ যাবে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, আখাউড়া হয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আগরতলায় যুক্ত হবে। তারপর যাবে ভারতের অঙ্গরাজ্যে।

ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের কেনা রয়েছে মোট ২০০ জিবিপিএস। দেশে ব্যবহার হচ্ছে ৮৩ জিবিপিএস। বাকী ১১৭ জিবিপিএস এর মধ্যে ১০জিবি পিএস ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে।

ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্রয় চুক্তি গত মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যুৎভবনে অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সচিব মাজহারুল হক এবং ভারতের বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগম (এনভিভিএন)-এর পক্ষে সই করেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী (সিইও) নন্দ কিশোর শর্মা।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানিতে খরচ পড়বে ৬ টাকা ৪৩ পয়সা।  যা ইতিপূবে আমদানিকৃত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের দামের চেয়ে বেশি। বর্তমানে এর দাম গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৫ টাকা পড়ে।

ত্রিপুরা তাদের পালাটানা গ্যাস চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পেমেন্ট ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেবে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ নিলেই কেবলমাত্র বাংলাদেশকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হবে না।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বিনা মাশুলে ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ত্রিপুরার পালাটানায় ৭৭৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে ভারত। বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য ওই কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। সে অনুযায়ী ভারতের ত্রিপুরা থেকে একশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ সরকার।

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য কুমিল্লা থেকে ত্রিপুরা অংশে মোট ৫৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনও নির্মাণ করেছে উভয় দেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ২৮ কিলোমিটার এবং ভারত অংশে ২৬ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়। নতুন এই গ্রিড লাইন ত্রিপুরার সুরজমনি নগর থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লাকে সংযুক্ত করেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। ভারত থেকে এখন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like