ফখরুলই হচ্ছেন মহাসচিব

fakrul11455862170-696x2281-696x228পূর্বপশ্চিম: জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই এবার বিএনপির নতুন মহাসচিব হতে যাচ্ছেন।  অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকেই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব ঘোষণা দেবেন খোদ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া- এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

দলটির একাধিক নীতি-নির্ধারক এই আভাস দিয়ে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে  দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। তারা বলেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে (চলতি) মির্জা ফখরুলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে দলের হাইকমান্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপির তখনকার মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। এর পরপরই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

জানা গেছে, কাউন্সিলের দিন মহাসচিব পদের ঘোষণা ছাড়া আর তেমন কোনো চমক থাকছে না। কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে ওই দিনই চেয়ারপারসন তার ক্ষমতাবলে দলের মহাসচিব নিয়োগের ঘোষণা দেবেন।

২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা আলমগীরকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর প্রায় ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর ছয়বার জেল খেটেছেন তিনি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৮৮টি মামলা রয়েছে। ৩৫টি মামলায় ফখরুলের বিরুদ্ধে চার্জশিটও গ্রহণ করা হয়েছে। দফায় দফায় কারাগারে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি জটিল রোগেও আক্রান্ত বিএনপির এই নেতা। এরপরও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দুর্নীতি দুঃশাসনের হবে শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে বিএনপির এই্ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় কাউন্সিলের উদ্বোধন করবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

কাউন্সিলকে সামনে রেখে ক্ষমতা ও পদ-পদবি লাভের জন্য নেতাকর্মীরা নানা ধরনের তদবিরে ব্যস্ত। চলছে গ্রুপিং। কেউ প্রকাশ্যে, কেউবা পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। মহাসচিব হওয়ার দৌঁড়েও একাধিক শীর্ষ নেতার নাম শোনা গেছে।

জানা গেছে, মহাসচিব পদের জন্য ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আলোচনায় রয়েছেন। এ পদের জন্য আগ্রহ থাকলেও প্রকাশ্যে অবশ্য কেউ কিছু বলছেন না। অন্যরা সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এ পদের জন্য তেমন আগ্রহী নন। আর যাদের আগ্রহ রয়েছ, তারা তাদের শুভাকাঙ্খীদের মাধ্যমে হাইকমান্ডের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। গণমাধ্যমের মাধ্যমেও নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের নতুন মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই পছন্দ। প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকায় বিএনপি হাইকমান্ডের সামনে মির্জা ফখরুল ছাড়া আর কোনো বিকল্প পছন্দও নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগও নেই। সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ৮৮টি মামলার আসামি হয়েছেন। সব কিছু মিলিয়ে তার প্রতি কর্মীদের মধ্যে এক সহানুভূতি রয়েছে। এছাড়া সুশীল সমাজও তাকে পছন্দ করেন।

সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও সবুজ সঙ্কেত রয়েছে। তবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে ক্লিন ইমেজের অধিকারী মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব করতে খালেদা জিয়ার কাছে অনুরোধ এসেছে। আর খালেদা জিয়া নিজেও দলের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম তার গুডবুকে রেখেছেন। এছাড়া মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে দলের এমন ক’জন নেতাও বিভিন্ন মাধ্যমে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, দলের মহাসচিব গণতান্ত্রিকভাবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই করা হবে। চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে গেলে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) কাউন্সিলররা ক্ষমতা দেবেন। তিনি মহাসচিব নির্বাচন করতে পারবেন।

একই বিষয়ে অপর ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত হয়ে আছেন মির্জা আলমগীর। তাকে আরও আগেই ভারমুক্ত করা উচিত ছিল। কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি ভারমুক্ত হবেন- এমনই ধারণা করা হচ্ছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত থাকা মির্জা আলমগীর ভারমুক্ত হবেন বলেও মনে করেন তিনি।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like