প্রার্থী ও প্রচারণায় পলাতক আসামী

indexনিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ১৫ মার্চ : হ্নীলা ইউপির লেদার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে নুরুল হুদা। এবারের ইউপি নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে লড়ছেন তিনি। টিউবওয়েল প্রতীকে পুরোদমে চলছে তার প্রচারণা। অথচ নুরুল হুদার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮ টি মামলা। যার মধ্যে একডজন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এর মধ্যে  রয়েছে হত্যা, ইয়াবা পাচার, মানবপাচার, পুলিশের উপর হামলা ও  বনবিভাগের কর্মকর্তার উপর হামলার মামলা । ১১ মার্চ তাকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। কিন্তু সেদিন রাতে পুলিশের উপর হামলা করে ওই ইয়াবা গড়ফাদারের সহযোগীরা। হামলায় আহত হয় ৫ পুলিশ সদস্য। সেদিন পুলিশ তাকে আটক না করেই ফিরে আসে। এরপর থেকে তিনি এলাকাতেই রয়েছেন। প্রচারণা চালাচ্ছেন পুরোদমে।
নুরুল হুদার মত অনেক অপরাধীই এবার টেকনাফ ইউপির বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী । বিজয়ী হতে সঙ্গবদ্ধভাবে কাজ করছেন দলটি। নুরুল হুদার পাশের ওয়ার্ডের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মৃত হায়দার আলীর ছেলে জামাল হোসেন। তিনিে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলার পলাতক আসামী।
এদিকে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে লড়ছেন মৃত দুদু মিয়ার ছেলে নুরুল আলম নুরা।
তিনি সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ফুফাত ভাই। তিনিও একাধিক মামলার পলাতক আসামী।
একইভাবে নির্বাচনে দ্ড়াানো পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন যোগাতে এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মানবপাচারকারী ও পলাতক আসামিরা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের খুজে পাচ্ছেন না।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলায় বিজিবিও পুলিশের তাড়া খেয়ে দীর্ঘ দিন আতœগোপনে থাকার পর ফের এলাকায় ফিরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পুলিশের খাতার পলাতক আসামি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মানব পাচারকারিরা। প্রশাসনের অভিযান না থাকায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাদের কাছের আতœীয়স্বজন প্রার্থীর পক্ষে কালো টাকা  ব্যবহার করে নির্বাচিত করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যে শাহপরীর দ্বীপের শীর্ষ মানব পাচারকারি এক ডজন মামলার পলাতক আসামি ডাঙ্গারপাড়ার মৃত বাড়– হাজির ছেলে মো. ফিরোজ একাধিক মামলার আসামি তার ভাই আবু তাহের ও হেলাল উদ্দিন। মাঝার পাড়ার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে সাহাব মিয়া, মোজাহের মিয়ার ছেলে আবুল কালাম, জাহেদ হোসেন মাঝির ছেলে সৈয়দ উল্লাহ, দক্ষিন পাড়ার ওমর মিয়ার ছেলে মো. কাসিম, বুজুরুক মিয়ার ছেলে আমিন উল্লাহ ভুলু, মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. ইলিয়াছ, মৃত গনি মিয়ার ছেলে নুর হাকিম মাঝি, তার ছেলে মো. জয়নাল, ঘোলাপাড়ার মৃত মো. নছিমের ছেলে মো. আমিন, মিস্ত্রি পাড়ার হাতকাটা হাসিমের ছেলে মো. সেলিম ওরফে লম্বা সেলিম, মৃত জালাল আহমদের ছেলে নুর হোসেন, মৃত বশির উল্লাহর ছেলে এনায়েত উল্লাহ, বাজারপাড়ার সালেহ আহমদের ছেলে মো. ইসমাইল, মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. ইউনুছ, মৃত ধলু হোসনের ছেলে মো. বেলাল, দিল মোহাম্মদের ছেলে মো. শফিক, কোনারপাড়ার সৈয়দ করিম চৌকিদারের ছেলে মো. ইয়াহিয়া, রাস্তার মাথার ইমাম শরীফের ছেলে মো. ফয়সাল, সাবরাং কচুবনিয়ার দেড় ডজন মামলার পলাতক আসামি আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল হামিদ, আবদুল রকিমের ছেলে নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত, আবদুল করিমের ছেলে আবদুল্লাহ, ফজল আহম্মদের ছেলে মো. ইসলাম বাগু, কাটাবনিয়ার মৃত আজিজুল রহমানের ছেলে মনির উল্লাহ, হারিয়াখালীর নুর আহম্মদের ছেলে মো. সাদ্দাম, আমির হোসনের ছেলে জিয়াউর রহমান, নয়াপাড়ার লাল মিয়ার ছেলে ইমাম শরীফ ও কোয়ানছড়িপাড়ার মৃত আমির হোসনের ছেলে কুইল্লা মিয়া মাঝির বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশের একটি সুত্রে জানায়, নতুন ওসি আবদুল মজিদ থানায় যোগদানের এক মাস অতিবাহিত হলেও
কোন ধরনের অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় মানব পাচারসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি ও স্বরাষ্টমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা, মানব পাচারকারি ও সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে এসে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে গত শুক্রবার রাতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অভিযানের সময় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে
৫ সদস্যকে আহত করলেও এখনো পর্যন্ত কোন বিশেষ অভিযানও হয়নি এবং আসামিও আটক করতে পারেনি। এর জন্য পুলিশের দুর্নাম ছাড়া আর কিছু নেই।
টেকনাফ বিজিবির ২ ব্যাটলিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ জানান, এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া মানবপাচারের দালাল চক্রের সদস্য পুনরায় ফিরে এসেছে বলে অনেখের কাছ থেকে শুনেছি। তাই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
টেকনাফ থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, যখন যেখানে কোন পলাতক আসামী অবস্থান করছেন বলে সংবাদ পাচ্ছেন তখনই সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, পলাতক আসামীদের ধরতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। সে প্রার্থী হোক কিংবা না হোক আইনের চোখে অপরাধী।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like