হিজবুত তাওহীদ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ৩

কক্সবাজারটাইমস ডেস্কঃ সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নে হিজবুত তাওহীদের সদস্যদের সাথে গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষে ২ হিজবুত তাওহীদ কর্মী ও এক পথচারী নিহত হয়েছে। ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে শতাধিক গ্রামবাসী।

সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ। নিহতরা হলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ইব্রাহিম খান রুবেল (৩০), চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সোলায়মান খোকন (৩০) ও পথচারী সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের খোতখাস্তা গ্রামের মৃত আজহার আলীর ছেলে মজিবুল হক মজু মিয়া (৪১)। নিহতদের মৃতদেহ থানায় রয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়ায় হিজবুত তাওহীদের ১১০ জন সদস্যকে নিয়ে একটি উপকূল বাস যোগে থানায় আসার পথে ঢাকা-নোয়াখালী সড়ক অবরোধ করে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। তারা সড়কটির ১০ থেকে ১২টি স্থানে বড় বড় গাছের গুড়ি ও ইট ফেলে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা সড়কের অবরোধ তুলে নেয়ার চেষ্টা করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত (সাড়ে ১১টা) উদ্ধারকৃতদের নিয়ে থানায় পৌঁছতে পারেনি পুলিশ।

এভাবে গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করা হচ্ছে

সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনাইমুড়ী উপজেলা ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে প্রশাসন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের জানান, এর আগেও ওই সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। তারা নবী ও রাসুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে। এলাকাবাসী এটি মেনে নিতে না পেরে আজ প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়ে এলাকায় ফেরার পথে হিজবুত তাওহীদের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। আর তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এ হামলা চালিয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নোয়াখালী জেলাসহ, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। এছাড়াও র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা ঘটে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিজবুত তাওহীদের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পোরকরা গ্রামে ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গত ২০০৯ সালে স্থানীয় লোকজন সংগঠনটির সদস্যদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং ২০১০ সালে আবার এলাকায় আসলে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষ হয়। কিন্তু পুনরায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা চাষীরহাটে একটি সমাবেশ করে। ওই সমাবেশ থেকে ইসলাম বিরোধী, স্থানীয় মসজিদের ইমামদের নিয়ে কটূক্তি, ইসলাম ধর্ম নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয় এবং একটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করে তারা। এতে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত কয়েক দিন ধরে ওই সংগঠনের বহিরাগত কর্মীদের এলাকায় আনাগোনা বেড়ে যায়।

সোমবার স্থানীয় লোকজন হিজবুত তাওহীদের এসব কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপি দিয়ে ফেরার পথে নূরুল হক মেম্বারের বাড়ির সামনে থেকে দুই যুবককে আটক করে বাড়িতে নিয়ে আটক করে রাখে হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা। পরে দুপুরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শতশত গ্রামবাসী নুরুল হক মেম্বারের বাড়িতে জড়ো হয়। তখন হিজবুত তাওহীদের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় বিচ্ছিন্নভাবে পুরো এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হিজবুত তাওহীদের দুই কর্মীকে আটক করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে তাদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গুলি, টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় ছেলেকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মজিবুল হক মজু মিয়া। সংঘর্ষ চলাকালে হিজবুত তাওহিদের সমর্থকদের ৫ ঘর ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছে।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like