আল্লাহ জিকিরকারীদের রহমতে ঢেকে রাখেন

নিউজ ডেস্ক : দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি ও মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে আল্লাহর জিকির। বেশি বেশি করে মহান আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে এবং সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।’ (সূরা আহজাব : ৪১-৪২)।

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব।’ (সূরা বাকারা: ১৫২)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যেকোনো মানব দল আল্লাহর জিকির করতে বসে, নিশ্চয়ই আল্লাহর ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে নেয়, তার রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে এবং তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হয়। অধিকন্তু আল্লাহ স্মরণ করেন তাদেরকে আপন পার্শ্বচরদের কাছে।’ (মুসলিম)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, ‘এক বেদুইন রাসূলে পাক (সা.)-এর দরবারে এসে আরজ করল- ইয়া রাসূলাল্লাহ! সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? রাসূলে পাক (সা.) জবাবে বললেন, যার হায়াত দীর্ঘ এবং যে বেশি নেক আমল করেছে।

আবার সে জিজ্ঞেস করল- ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন আমল সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ? রাসূল (সা.) বললেন- তুমি দুনিয়া (মোহ) ত্যাগ করবে আর তখন তোমার মুখে আল্লাহর জিকির থাকবে অর্থাৎ সর্বদা আল্লাহর জিকির করাই সর্বোত্তম ইবাদত।’ (আহমদ : তিরমিজি)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি আরজ করল ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসলামের বিধিবিধান আমার ওপর অনেক। আমাকে সংক্ষেপে কিছু বলে দিন, যা আমি ধরে থাকতে পারি। রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকির করে থাকে।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।

আল্লাহর জিকিরই হচ্ছে সর্বোত্তম ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- ‘আল্লাহর জিকিরই সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সূরা আনকাবুত : ৪৫)। সদাসর্বদা আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, ‘তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না।’ (সূরা আরাফ : ২০৫)।

আল্লাহর জিকিরের উদ্দেশে সর্বত্র সালাত কায়েম করার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘আমার জিকির বা স্মরণার্থে সালাত কায়েম করো।’ (সূরা ত্বাহা: ১৪)।

যারা আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর জিকির করে তারাই দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম। এরশাদ হচ্ছে, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে তথা সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহর জিকির করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করনি, তুমি পবিত্র; তুমি আমাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করো। (সূরা আল-ইমরান : ১৯১)।

হজরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমরা একবার রাসূলে পাক (সা.)-এর দরবারে ছিলাম, এ সময় তিনি আমাদের বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি দৈনিক এক হাজার নেকি অর্জন করতে সক্ষম?’

তখন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে একজন আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা দৈনিক এক হাজার নেকি কিভাবে লাভ করতে পারব? রাসূলে পাক (সা.) জবাবে বললেন, ‘তোমাদের যে কেউ দৈনিক ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে তার আমলনামায় এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং তার এক হাজার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (মুসলিম)।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like