সব প্রথম শ্রেণির চাকরি শুরু নবম গ্রেডে

ফলে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার ও নন-ক্যাডার সব কর্মকর্তা চাকরির শুরুতে নবম গ্রেডে বেতন পাবেন।

তবে ক্যাডার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের একটি করে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অষ্টম বেতন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রবেশ পদের বেতন নবম গ্রেডে বেতন ধরা হলেও ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতন ধরা হয় অষ্টম গ্রেডে।

সপ্তম বেতন কাঠামোতে প্রথম শ্রেণির ক্যাডার ও নন-ক্যাডার উভয় কর্মকর্তারাই চাকরিতে প্রবেশের সময় নবম গ্রেডে বেতন পেতেন।

এনিয়ে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে কর্মবিরতিও পালন করেন তারা। সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।

বৈঠক শেষে মুহিত বলেন, “অষ্টম ও নবম গ্রেড নিয়ে একটা সমস্যা ছিল…। কেননা এখন একই সঙ্গে গ্রেডের কিছু পরিবর্তন করেছি।

“ফিক্সেশন অব স্যালারিতে গিয়ে ডিসক্রিপেন্স হচ্ছিল। এই দুইটা আমরা সমাধান করে দিয়েছি।”

এর ব্যাখ্যায় অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, “ক্যাডার অফিসার আর যারা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত (প্রথম শ্রেণি) তারা একই স্কেলে বেতন পাবেন। সবাইকে নবম গ্রেডে আনা হয়েছে।”

সব প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রবেশ পদের বেতন নবম গ্রেডে আনা হলেও ক্যাডার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের একটা ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন ‘ফিক্স’ করা হবে বলেও জানান অর্থ সচিব।

চতুর্থ গ্রেডে থাকা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেতন বৈষম্য সংক্রান্ত এই মন্ত্রিসভা কমিটি।

সপ্তম বেতন স্কেলে চতুর্থ গ্রেডে থাকা অধ্যাপকদের ৫০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড পেয়ে পরের ধাপে চলে যেতেন। অষ্টম বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ায় শিক্ষকরা এই সুযোগ হারাচ্ছিলেন।

অর্থ সচিব জানান, চতুর্থ গ্রেডে যেসব শিক্ষক বেতন পাবেন তাদের মধ্য থেকে ৫০ ভাগ ‘পার্মানেন্টলি প্রমোশন পাবেন’।

“আগে যে ৫০ ভাগ সিলেকশন গ্রেড পেতেন, সেই ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দিয়ে দেওয়া হবে। এভাবেই বিষয়টাকে সমাধান করা হয়েছে।”

তবে বেতন বৈষম্য সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের ডাকা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন বৈষ্যমের প্রশ্ন আছে। ইতোমধ্যেই আমাদের (মন্ত্রী) তিনজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ ও জনপ্রশাসন সচিব তাদের সঙ্গে বসেছেন, একটা অবস্থানে পৌঁছেছেন।

“মোটামুটিভাবে একটা সমাধানে পৌঁছে গেছেন। একটি ব্যাপারে পুরো সমাধান হয়েছে বলে বলা যায় না।”

মুহিত বলেন, “সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরবর্তী সভায় আমরা তাদের ফেডারেশনের চারজন বা পাঁচ জনকে এখানে আহ্বান করব। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত দেব।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা অষ্টম বেতন কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কর্মবিরতিতেও গিয়েছিলেন। পরে সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like