আরও ৮শ মিলিয়ন ডলার হারাতে বসেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক

দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারার বুধবার নতুন এই খবর দিয়েছে। ১০০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার খবরটিও ফিলিপিন্সের এই সংবাদপত্রটি দিয়েছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে তোলপাড় চলছে।

সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) পাঁচটি অ্যাকাউন্টে আসে। এরপর তা তুলে নিয়ে ক্যাসিনোর মাধ্যমে সাদা করে হংকংয়ে পাচার করে দেওয়া হয়।

বলা হচ্ছে, চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে এই অর্থ সরিয়েছে।

ফিলিপিনে অর্থ পাচারের এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে সেখানেও এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। আর তার তদন্তে রিজল ব্যাংকের যে শাখায় সন্দেহজনক ওই পাঁচটি হিসাব খোলা হয়েছিল, তার ব্যবস্থাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও খবর দিয়েছে ইনকোয়ারার।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদপত্রটি বলেছে, গত মাসে ৮১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের পর ওই পাঁচটি অ্যাকাউন্টে আরও ৮৭০ মিলিয়ন (৮৭ কোটি) ডলার স্থানান্তরের অর্ডার এসেছিল। কিন্তু আগের ঘটনার পর নতুন অর্থ স্থানান্তর আর করা হয়নি।

তবে আগের ৮১ মিলিয়ন ডলার সঙ্গে সঙ্গে স্থানান্তর হয়ে গিয়েছিল বলে তা আর আটকানো যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০০ মিলিয়ন ডলার ফিলিপিন্সে ঢোকার কথা জানিয়েছিল ইনকোয়ারার।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার সরানো হয় ফিলিপিন্সে, ২০ মিলিয়ন ডলার সরানো হয় শ্রীলঙ্কায়।

শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে পাঠানো অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বুধবারই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা। ফিলিপিন্সের অর্থের একটি অংশ ব্যাংক চ্যানেলের বাইরে চলে গেছে বলে জানান তিনি।

ইনকোয়ারার বলেছে, সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ সরানো হয়েছে ফিলিপিন্সের ব্যাংকটিতে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর আদেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী অর্থ স্থানান্তর হয়ে যায়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “ওখান থেকে তারা (ফেডারেল রিজার্ভ) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বার্তা প্রেরণ করেন। আমরা তোমাদের এই রকম একটা হুকুম পেয়েছি। তোমরা এটা কনফার্ম কর।

“জবাবে তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) বলেছে, এটা ফলস। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা পাওয়ার আগেই লেনদেনটা হয়েছে।”

ইনকয়ারের প্রতিবেদনেও একথাই বলা হয়েছে।

তবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক এক্ষেত্রে তাদের দায় অস্বীকার করলেও বাংলাদেশ বলছে, তারা দায় এড়াতে পারেন না। অর্থ ফেরত পেতে তাদের বিরুদ্ধে মামলারও হুমকি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like