যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে তার দল জামায়াতে ইসলামীর হরতাল চলছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে।

TAS_2030_ed

বুধবার সকাল থেকে ঢাকার কোথাও জামায়াত-শিবির কর্মীদের তেমন কোনো তৎপরতা বা মিছিল-পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

হরতালের প্রথম দুই ঘণ্টায় রাজধানীতে গোলোযোগেরও কোনো খবর আসেনি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মো.মারুফ হোসেন সরদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হরতাল ঘিরে কেউ যেন জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”

সকালে হরতালের শুরু থেকেই ঢাকার প্রতিটি মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি পুলিশের টহলও চলছে।

হরতালে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যা ব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন বলে বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান।

এদিকে মঙ্গলবার হরতালের ঘোষণার পর সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয় বলে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা জানান।

দিনের শুরুতে রাস্তায় গণ পরিবহন ও ব্যাক্তিগত যানবাহন কম দেখা যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে।

অন্য দিনের তুলনায় সকালে বাসের সংখ্যা ছিল কম। তবে রিকশা চলছে সব সড়কেই।

হরতালের সকালে যাত্রী কম থাকায় এবং নিরাপত্তার কারণে মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়েননি মালিকরা। তবে ঢাকার কাছাকাছি গন্তব্যের কিছু বাস ছেড়ে গেছে বলে  পরিবহন কর্মীরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার আপিল বিভাগ মীর কাসেমের যুদ্ধাপারাধ মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় আপিলেও বহাল থাকে।

ওই রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের নামে গণমাধ্যম কার্যালয়ে বিবৃতি পাঠিয়ে হরতালের বার্তা দেয় দলটি।

এতে বলা  হয়, “আমরা জনাব মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ৯ মার্চ বুধবার সারা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।”

জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম মজলিসে শুরার সদস্য মীর কাসেম দলটির অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিতি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা উঠে এসেছে এ মামলার বিচারে।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কাসেমের আগে যে ছয় মামলার রায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে এসেছে, তার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

এছাড়া জামায়াতের আমিরের ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়েছে; নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

আপিল শুনানি চলার মধ্যেই মারা গেছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম, যিনি ছিলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের হোতা।

প্রতিটি রায়ের পরই জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডেকেছে। এই কর্মসূচিতে গত দুই বছরে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নাশকতাও ঘটিয়েছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like