তবু ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

371847-bangladesh-cricket-fans-700

একটা হিসাবে ভারতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চেয়ে প্রায় ১৫ বছর পিছিয়ে। আরেকটা হিসাব কষলে আরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে ভারতীয়রা। এই হিসাবটা ক্রিকেটে অগ্রগতির। ক্রিকেটে কোন দল কেমন গতিতে এগিয়েছে তার হিসাব।

সুবাস দিয়েও রোববার (৬ মার্চ) এশিয়া কাপের ফাইনালের হারে শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর এ হিসাব কষে প্রত্যাশার আলো ছড়াচ্ছেন টাইগার ক্রিকেট ভক্তরা। তারা বলছেন, টানা তিন আসরের মধ্যে দু’ আসরে রানারআপ হওয়াটা ঈর্ষণীয় অর্জন। আর রোববারের ফাইনালের হারের শোককে শক্তিতে রূপ দিয়েই টাইগাররা সামনে আরও বড় সাফল্য দেবে দেশবাসীকে।

এই সাফল্যের জন্য অন্তত ভারতবাসীকে যে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে, তা করতে হবে না বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের। আর সেটা বলছে পরিসংখ্যানই।

পরিসংখ্যান মতে, ভারত ১৯৩২ সালে টেস্ট খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও তারা এ ফরম্যাটে প্রথম জয় পেয়েছে ২০ বছর পর। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে  ইনিংস ও ৮ রানের ব্যবধানে জিতেছিল দলটি।

আর বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট খেলার যোগ্যতা অর্জনের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই প্রথম জয় তুলে নেয়। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২২৬ রানে সাফল্যের হাসি হাসে হাবিবুল বাশার সুমন বাহিনী।

টেস্ট খেলা শুরু করার পর ভারতের ব্যাটসম্যানরা এ ফরম্যাটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান ৩২ বছর পর। ১৯৫৫/৫৬ মৌসুমে নিজেদের মাঠ হায়দরাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন পলি উমরিগড় (২২৩)।

আর বাংলাদেশ টেস্ট খেলা শুরু করার ১২ বছরের মধ্যেই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আদায় করে ফেলেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি হাঁকান ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’খ্যাত মুশফিকুর রহিম (২০০)।

ভারত ১৯৭১ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ (ওয়ানডে) খেলার যোগ্যতা লাভের পর তাদের প্রথম জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয় চার বছর। ১৯৭৫ সালে ভারতীয় ক্রিকেট টিম এ জয়লাভ করে পশ্চিম আফ্রিকার বিপক্ষে।

অথচ ১৯৯৮ সালে ওয়ানডে খেলার যোগ্যতা অর্জনের মাত্র একবছরের মাথায়ই প্রথম জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ দল। ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে ভারতের মাটিতে কেনিয়ার বিপক্ষে সে জয়ের হাসি হেসেছিল আকরাম খান বাহিনী। ওই বছরই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সাফল্যের আকাশে ওড়ার অর্জনতো ছিলই।

এতোসব দিক বিবেচনায় যেখানে বাংলাদেশ দলের অগ্রগতি ভারতের চেয়ে স্পষ্টতই বেশি, সেখানে অচিরেই যে বাংলাদেশ আরও বড় শিরোপার ময়দানে শেষ হাসি হাসতে পারবে না, সে কথা মানতে নারাজ টাইগার ক্রিকেটের ‘হিসাবী’ ভক্তরা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like