এবার রংপুরে বৃক্ষমানব পরিবারের সন্ধান

2016_03_06_17_53_41_b6VnXiSZk16dxy7ACicXduBttPNWzl_originalবাংলামেইল : খুলনার পাইকগাছার আবুল বাজানদারের শরীরে হাতে পায়ে গাছের মতো শিকড় গজানো বিরল রোগ ধরা পড়ার পর বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বৃক্ষমানব আবুল বাজানদার এখনো সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। এরই মধ্যে ভোলায় আলমগীর মনির নামে আরেকজন বৃক্ষমানবের খবর গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। তবে এবার ওই বিরল রোগে আক্রান্ত আরো একটি বৃক্ষমানবের সন্ধান মিলেছে রংপুরের পীরগঞ্জে।

পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের আব্দুল্ল্লাহপুর কালসারডাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৪৮) ও তার ছেলে রুহুল আমিন (১০) দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।

বিরল রোগে আক্রান্ত ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম জন্মের পর থেকেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ রোগে ভুগছেন বলেও জানায় পরিবারের সদস্যরা।

তাজুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, তার বাবা আফাস মুন্সি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বড় ভাই বাছেদ আলীও এ রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন আগে তার দু’পা কেটে ফেলা হলেও হাতে গাছের মতো গজানো শিকড় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাছেদ।

তাজুল ইসলাম আরো জানান, তিনি তার বাবার কাছে শুনেছেন জন্মের দুই মাস পরই তার হাত ও পায়ের নখগুলো বড় হতে থাকে। ধীরে ধীরে তা গাছের শিকড়ের মতো বের হয়ে আসে। দিন যতই গড়াচ্ছে নখগুলো ততই বড় হচ্ছে। তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া (১২) ও রুহুল আমিন (১০)। রুবেল সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও রুহুল আমিন হাত ও পায়ে বড় বড় নখ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এখন রুহুল যতোই বড় হচ্ছে শিকড়ের মতো গজানো নখগুলোও বড় হচ্ছে। তারা বাবা ছেলে কখনোই নিজ হাতে খেতে পারেন না।

অভাব অনটনের সংসারে দুই বেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না। তাই চিকিৎসা করার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন কোনো রকমে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়েই ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন।

এসময় তাজুল ইসলাম জানান, রোগটি জন্মগত হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। এ কারণে তিনি বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তিকে। ছেলে রুহুল আমিনও তার মতো এই পেশায় জড়িত।

তাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখন যেভাবে বেঁচে আছি তাতে বাকি দিনগুলো ভিক্ষা করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার জোটাতে পারবো। হাত ও পা কেটে ফেললে কীভাবে তাদের মুখে খাবার দেবো?

স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তাজুল ইসলাম ও তার ছেলে  রুহুল আমিন বলেন, হাত দুটো কোনো রকম নাড়াচাড়া করতে পারলেও পা দুটোর ওজন অনেক। উঁচু করতে কষ্ট হয়। খুব কষ্ট হয়। হাতের চেয়ে পা দুটোর অবস্থা খুব খারাপ। খুব জ্বালা পোড়া করে। তীব্র ব্যথায় বাবা ছেলে ঘুমাতে পারি না। হাত ও পায়ের নখ কাটলেই রক্ত বের হতে থাকে ।

এসময় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি জানিয়ে তাজুল ইসলাম তার নিজের ও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের দানশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানান।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like