মস্তিষ্ক কোষ ‘ধ্বংস করে’ জিকা

Zika-Virus

বিকাশমান মস্তিষ্কে যে ধরনের টিস্যু পাওয়া যায় তা জিকা ভাইরাস ধ্বংস করে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।

এতে এই ভাইরাস মাইক্রোসেফালির মতো জন্মগত ত্রুটি তৈরি করে বলে এতদিন যে ধারণা ছিল তার আরও জোরালো হয়েছে।

স্নায়ুবিক কোষ, যেগুলো মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে জিকা ভাইরাস তা ধ্বংস বা এর বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে বলে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় দেখা গেছে।

মেডিকেল জার্নাল সেল স্টেম সেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিকা ভাইরাস মস্তিষ্কের কর্টেক্স বা বহিঃস্তরের কোষকে বেছে বেছে আক্রমণ করে: ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোষের মৃত্যু হয় এবং অন্যদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও নতুন কোষ তৈরি ব্যাহত হয়’।

এ গবেষণায় জিকা ভাইরাস ও শিশুর মস্তিষ্কের ত্রুটির মধ্যে সম্পর্ক থাকার পক্ষে জোরালো সমর্থন মিললেও এতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন গবেষকদের একজন।

সম্প্রতি ব্রাজিলে এডিস এজিপ্টি মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ছোট মাথা নিয়ে বহু শিশুর জন্ম হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু করেন গবেষকরা।

এদিকে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের এক প্রতিবেদনে রিও ডি জেনেরিওর ৮৮ জন গর্ভধারিণীর ওপর চালানো একটি গবেষণার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গর্ভকালীন অবস্থায় জিকা সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু, প্ল্যাসেন্টার (ফুল) অপর্যাপ্ততা ও শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ৮৮ জনের রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষায় ৭২ জনের দেহে জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে।

জিকা আক্রান্ত ৪২ জনের আল্ট্রাসনোগ্রামে ১২ জনের গর্ভের শিশুর গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে।

এসবের মধ্যে মাইক্রোসেফালি, অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের অস্বাভাবিক প্রবাহ, মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের অস্বাভাবিকতা ও শিশুর মৃত্যুর মতো বিষয় রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪১টি দেশ ও অঞ্চলে জিকা সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ৩১টিই আমেরিকা মহাদেশের।

ব্রাজিল ছাড়াও ফ্রেঞ্চ পলিনেসিয়ায় মাইক্রোসেফালিসহ সদ্যোজাতদের অন্যান্য সমস্যা বেড়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like