আগামী বাজেট হবে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনায় মন্ত্রী এ আভাস দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাজেট নিয়ে চিন্তা শুরু করেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই বাজেট প্রণয়ন করা হবে। তবে এ বাজেটের আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৯০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্রথম বাজেট শুরু করে আজ ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট করতে যাচ্ছি। আমরা আশাবাদী এটা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে মেগা প্রকল্প গ্রহণের জন্য আলাদা ক্যাপিটাল বাজেট করার কথা আছে। মেগা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনে কিছুটা কঠিন শর্তের ঋণও নেয়া হবে।’

দেশে প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল আছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বহিঃবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যখন প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখি তখন আমরা ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করছি। আমাদের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশালী।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন সঠিক পথে আছে। প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জিত হবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এনবিআর রাজস্ব ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এনবিআর বহির্ভুত করও বেড়েছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই আছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রা সরবরাহ ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। যা মুদ্রানীতির লক্ষ্যের মধ্যেই আছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বাজেট বড় আকারের করা উচিত। বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুবই দুর্বল। তাছাড়া সরকারি বিনিয়োগ ৭৫ শতাংশ হচ্ছে নির্মাণখাতে। কিন্তু কী ধরনের নির্মাণ কাজ হচ্ছে তা ভেবে দেখার বিষয় আছে। মেগা প্রকল্প নিচ্ছি এটা ভাল, কিন্তু বাস্তবায়ন ক্যাপাসিটি বাড়ানো উচিত।’

এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক কাজ করছি। কিছু কিছু ঝামেলা আছে, তা দূর করার চেষ্টা করছি। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে এনবিআর কাজ করে  যাচ্ছে।’

বিআইডিএসের মহাপরিচালক কেএস মুর্শিদ বলেন, ‘দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, কিন্তু কৃষিখাতে কোনো মেগা প্রজেক্ট নেয়া হচ্ছে না। জাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কৃষি ও ফার্মেও মেগা প্রজেক্ট নেয়া দরকার। আগামী বাজেটে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার।’

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব তরিকুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবুদ্দিন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করার আগে অর্থনীতিবিদ, গবেষকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় বসেন অর্থমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিক আগামী বাজেটকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রীর প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু হয়, যা চলবে আগামী ৭ মে পর্যন্ত। মোট ১১টি বাজেট বৈঠক করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like