পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

বিচারক আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এ আসামিদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে ওইদিনের মধ্যে উক্ত আসামিরা আদালতে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই পলাতক হিসেবে বিচারকাজ শুরু হবে।

যাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়েছে তারা হলেন- সাভার পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাভার পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, নান্টু কন্ট্রাকটার, উপ-প্রধান পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, ইথার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনি, রেজাউল ইসলাম, আব্দুল মজিদ,  নয়ন মিয়া ও মো. ইউসুফ আলী।

এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর ৪১ আসামির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক ২৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল তারা হলেন, সাভার পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাভার পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ, উপ-প্রধান পরিদর্শক (সাধারণ ঢাকা বিভাগ) মো. জামশেদুর রহমান, উপ-প্রধান পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিদর্শক প্রকৌশল মো. ইউসুফ আলী, পরিদর্শক প্রকৌশল ঢাকা বিভাগ মো. শহিদুল ইসলাম, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন, ইথার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনি, রেজাউল ইসলাম, নান্টু কন্টাকটার, মো. আব্দুল হামিদ, আব্দুল মজিদ, মো. আমিনুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, মো. ইউসুফ আলী ও তসলিম। এই পলাতক ২৩ আসামীর মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন সময়ে আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের প্রার্থনা করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।

এ মামলায় জামিনে আছেন ১৭ জন। এরা হলেন- সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, রেফাত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেল, বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, মো, সারোয়ার কামাল, উত্তম কুমার রায়, অনিল দাস, শাহ আলম, আবুল হাসান, মোহাম্মদ আলী খান ও রাকিবুল হাসান।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়লে ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়।  সে হিসেবে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৬ জন।

অন্য দিকে, আহত হয় ১ হাজার ১৭০ জন। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অসনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে ৭৮ জন।

বাংলামেইল২৪


You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like