প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে চলবে না: প্রধানমন্ত্রী

বুধবার নিজের কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১২৫টি উপজেলায় ‘আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন’ এর উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। বাংলাদেশ কোনোমতেই পিছিয়ে থাকতে পারে না।”

নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা, আরও ব্যাপকভাবে নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো এবং উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করা- এই কাজগুলি খুব সহজ হয় শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।”

বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

গত সাত বছরে দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৩ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ৩০ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশের সব শিক্ষা কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

দেশের সব উপজেলায় আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রিসোর্স সেন্টার গড়ার এই কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো।

বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে বাছাই করা ১২৫টি উপজেলায় আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও তথ্য ভাণ্ডারের উদ্বোধন হলো বুধবার। এতে খরচ হয়েছে ৪০৩ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আরও ১৬০টি উপজেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এ কেন্দ্র করা হবে।

দেশের প্রায় সোয়া পাঁচ হাজার ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেন্টার থেকে মানুষ ২০০ ধরনের সেবা গ্রহণ করছে।

“যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তখন অনেকেই তা নিয়ে ‘ঠাট্টা-তামাসা’ করেছিল।কিন্তু আজকে প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশ সত্যিই ডিজিটাল।”

আর এক্ষেত্রে নিজের ছেলে ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কেও কৃতিত্ব দেন শেখ হাসিনা।

“আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সেই কিন্তু সবসময় পরামর্শ দিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে তার কাছ থেকেই আমরা পরামর্শ নিই।

“মা হয়েও আমি বলব, আমার কম্পিউটার শিক্ষা; আমি আমার ছেলের কাছ থেকে শিখেছি, এখনও শিখছি। এটাও ঠিক, শেখার কোনো শেষ নেই, সীমা নেই। এটা হল বাস্তবতা।”

শেখ হাসিনা আরও বলেন, শিক্ষা ছাড়া দারিদ্র বিমোচন সম্ভব নয় বলে শিক্ষাকে সরকার ‘সবচেয়ে বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছে।

শহর-গ্রামের উন্নয়ন এবং ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে তার সরকার গ্রামের উন্নয়নে নজর দিয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো- প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া; যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আইসিটি বিষয়ে আরও ভালো জ্ঞান দিতে পারেন।

দ্বিতল প্রতিটি সেন্টারে ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ যন্ত্রপাতি থাকবে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, রাজশাহীর পবা এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like