সব শিক্ষককে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে -প্রধানমন্ত্রী

Hasina-pm-02.03রাইজিংবিডি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে এখন কেউ আর ঠাট্টা করতে পারে না। আমরা চাই দেশটা আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ হোক। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। কারণ, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। বাংলাদেশ কোনমতেই পিছিয়ে থাকতে পারে না।

বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ব্যুরো ও পরিসংখ্যানের (বেনবেইস) উদ্যোগে নির্মিত ১২৫ উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন (ইউআইটিআরসিই)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত এএইচএন সিয়ং-দো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ২০০৮ সালে ঘোষণা দিয়েছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। তখন অনেকে এটা নিয়ে ঠাট্টা তামাশাও করেছে। কারণ, সে সময় নানা সমস্যা ছিল। তখন কোথাও কেউ একটু সমস্যায় পড়লেই আমাদেরকে ঠাট্টা করতেন- এই তো ডিজিটাল হয়ে গেছে।

কিন্তু আজকে প্রমাণ হয়েছে যে, বাংলাদেশ সত্যিই ডিজিটাল হয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেটা আরও প্রমাণ হল। কাজেই ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে এখন আমাদের কেউ ঠাট্টা করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘যখনই আওয়ামী লীগ সরকার এসেছে, দেশের মানুষের সেবা করেছে। কাজ করেছে।’

দেশের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দেশের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে আরও পারদর্শী হবে। দেশ আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। সেটাই আমাদের প্রয়োজন।’

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যে ট্রেনিং সেন্টারগুলো হচ্ছে সেগুলো আপনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকে ছাত্র-ছাত্রীরা শিখলে শুধু দেশে না বিদেশেও তাদের অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক মেধাবী। একটু সুযোগ দিলে তারা অনেক কাজ করতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগটা তাদের জন্য সৃষ্টি করে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একসময় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার ব্যাপারে আমাদের ছেলে-মেয়েদের যথেষ্ট অনীহা ছিল। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করব। এতে করে তাদের মাথার মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয় ঢুকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরও ১৬০টি জায়গায় এটার কাজ শুরু হয়েছে। ৪৮৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করব। এখানে শুধু শিক্ষকদের ট্রেনিং হবে না, স্থানীয় যারা তারাও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে শিক্ষকদের বিনামূল্যে ট্রেনিং দেয়া হবে আর যারা বাইরে থেকে নেবেন, তাদের একটু পয়সা খরচ করতে হবে। কারণ, খরচটাও একটু তুলতে হবে।’

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন কিন্তু আমরা শুধু শহরকেন্দ্রিক করিনি। আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছি। কারণ, উন্নতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে আয় বৈষম্য কমিয়ে ফেলা। ধনী-দারিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে ফেলা। কারণ, আমরা উন্নয়নটা সমগ্র বাংলাদেশে করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আমাদের। তাই দেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে চাই। একটা মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, কোন মানুষ যাতে না খেয়ে না থাকে। পাশাপাশি শিক্ষাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, আমি নিজে বিশ্বাস করি শিক্ষিত জাতি ছাড়া দেশকে আমরা কখনো দারিদ্রমুক্ত করতে পারব না।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সাহায্য করার জন্য দেশের বিত্তশালী ও প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় নিজেদের স্কুলে একটা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর উপহার দেবেন। কারণ, যে স্কুলে লেখাপড়া করে এসেছেন সেই স্কুলে একটি উপহার কেন দেবেন না? তাই উপহারটা দেবেন।’

সবকিছুই সরকার করে দেবে- এই অপেক্ষায় না থেকে নিজেদেরকেও স্বপ্রণোদিত হয়ে করতে হবে। কারণ, ওই স্কুল থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন সেখানে তো একটা দায়িত্ব আছে। যে কলেজে পড়েছেন তার প্রতিও তো একটা দায়িত্ব আছে। কাজেই এটা নিশ্চয়ই আপনারা করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী এসময় আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আশা করি বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজকে বিশ্বে বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে আছে। অর্থনৈতিকভাবে এখন আমরা যথেষ্ট স্বাবলম্বী। ইনশাআল্লাহ দেশকে কারও কাছে হাত পেতে চলতে হবে না। আমরা নিজের পায়ে দাড়াব। বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। কারণ, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। সেই বিজয়ী জাতি হিসেবেই এগিয়ে যাব এবং মাথা উঁচু করে থাকব।’

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like