আদালতে ডিজিটাল এভিডেন্স রেকর্ডিং চালু বুধবার

law-legal-book-ss-1920

প্রায় ১৫৬ বছরের পুরনো আইনে বিচারকদের হাতে লেখা সাক্ষ্যগ্রহণের ইতিহাসের ইতি টানা হচ্ছে। বুধবার (০২ মার্চ) সিলেটের ২০টি আদালতে ডিজিটাল এভিডেন্স রেকর্ডিং চালুর মধ্য দিয়ে নতুন যুগে পা রাখছে দেশের বিচার বিভাগ।

অর্থমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

সুপ্রিম কোর্টের সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) অর্থায়নে জুডিসিয়াল স্ট্রেনথেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় সিলেটের ৪০টির মধ্যে ২০টি আদালতকক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরায় এ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে।

ওইসব আদালতে আর কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য বা জেরা হাতে লেখা হবে না। বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষ, আসামি এবং বাদী-বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের সামনেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার মনিটর থাকবে। আদালতের কম্পিউটার কম্পোজকারী সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সকল পক্ষ তাদের সামনে থাকা কম্পিউটারের মনিটরে তা দেখতে পাবেন। নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হচ্ছে কি-না তাও তারা পরীক্ষা করতে পারবেন। এছাড়া সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালতের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করা হবে।

শুধু তাই নয়, টাইপিং এর পাশাপাশি পুরো সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার কথা মাথায় রেখে এক ঘণ্টা ব্যাকআপ রাখার মতো যন্ত্রপাতি সেট করা হয়েছে।

এখন ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই সাক্ষীর সাক্ষ্য হাতে লিখে লিপিবদ্ধ করেন বিচারকরা। দিনের পর দিন এভাবে তারা সাক্ষ্যগ্রহণ করে থাকেন। সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর চলে জেরা। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষীকে জেরা করেন। আর এ জেরাও বিচারকদেরকে হাতে লিখে লিপিবদ্ধ করতে হয়। ফলে সাক্ষ্য ও জেরা লিপিবদ্ধ করতে প্রচুর সময় ব্যয় হয়।

এছাড়া বাদী বা আসামিপক্ষও নানা সময়ে অভিযোগ করে থাকেন যে, যথাযথভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ লিপিবদ্ধ হয়নি।

হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ বাংলানিউজকে বলেন, প্রধান বিচারপতির স্বপ্ন, দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা। বিচার প্রক্রিয়ায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা। সর্বোপরি ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় সময়, শ্রম ও অর্থের খরচের পরিমাণ কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট কমিয়ে আনা।

সিলেটের আদালতগুলোতে যে প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে তা সফল হবে। পরবর্তীকালে দেশের অন্যান্য আদালতেও তা চালু করা হবে বলে আশা করেন সাব্বির ফয়েজ।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like