মীর কাসেমকে ‘রক্ষার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ শাহবাগে

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘোষিত ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ঘোষণার কথা আগামী ৮ মার্চ।

আপিলেও যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের বদর কমান্ডার কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার দাবিতে এবং তাকে ‘রক্ষার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে সোমবার বিকালে সমাবেশ ও সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করা হয় বলে গণজাগরণ মঞ্চের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের মীর কাসেম আলী তার অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনোভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে কি না- সেই আশঙ্কা আমাদের শুরু থেকেই ছিল।”

বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে- গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের প্রসঙ্গ তুলে এতে বলা হয়, “এই সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও তার বিরুদ্ধে আনীত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি সন্দেহাতীতভাবে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৭২ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। ”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মীর কাসেম আলী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কুখ্যাত ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক এবং বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত ঘাতক আলবদর বাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ছিল।

“মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের নির্যাতনের যে অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল তা প্রত্যক্ষদর্শী ১৪ জনের সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।”

এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতিতে এবং বিচার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কার্যকলাপে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের মাঝে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে যে, এই রাজাকারকে কোনোভাবে রক্ষার চেষ্টা হয় কিনা।

“আমরা দেখেছি সদ্য অবসর নেওয়া একজন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, যিনি এখনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, তিনি কীভাবে অবসরে গিয়েই যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই করতে চেয়েছিলেন।

“এখনও বিচার বিভাগে এই নজরুল ইসলামের সমআদর্শের যেসব সহকর্মী রয়ে গেছেন তাদের কাছ থেকে ঠিক কতটুকু ন্যায়বিচার আমরা পেতে পারি সে ব্যাপারেও আমরা সন্দিহান।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like