কুতুবদিয়ায় আ‘লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণায় জামায়াত নেতার বাধাঁ!

kutubdiya-election-1নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ২৯ ফেব্রুয়ারি: দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইয়াহিয়া খাঁন কুতুবীর প্রচারণায় আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াত নেতা সিরাজদৌল্লাহ বাধাঁ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তা তদন্ত করছে পুলিশ।
অভিযোগে জানা যায়, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ১নং উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি আমির হোছনের ছেলে মোঃ এমরান আরো ১০/১৫ জন আ’লীগ দলীয় প্রার্থী মোঃ ইয়াহিয়া খাঁন কুতুবীর প্রতীক নৌকার সমর্থক নিয়ে আকবর বলিপাড়া ঘাট ঘরে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। এসময় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজদৌল্লার নেতৃত্বে জামায়াত বিএনপির লোকজন নির্বাচনী আচার আচরণবিধি লংঘন করে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা না করার জন্য তাদেরকে বাঁধা প্রদান করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ এমরান জানান, নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় বাঁধার কারণ জানতে চাইলে ওই সিরাজদৌল্লাহ জামায়াত বিএনপির লোকজন নিয়ে তাদের উপর চড়াও হয়ে মারমুখি আচরণ ছাড়াও জাতির জনককে ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেন। এমনকি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোন মুহুর্তে খুন খারাবি সংগঠিত করবে এবং আসন্ন নির্বাচন বানচাল করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় বলে জানান তিনি।
জামায়াত নেতা কর্তৃক নির্বাচনী আচরণ লংঘনের অপরাধে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিরাজদৌল্লাহর বিরুদ্ধে ২৭ ফেব্রুয়ারী কুতুবদিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কুতুবদিয়া উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা সিরাজদৌল্লাহ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জেলা আ’লীগের এক সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেন। এ জন্য টাকা খরচও করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের টাকায় জামায়াত নেতার নাম চূড়ান্ত করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে ছিলেন কতিপয় সুবিধাবাদী নেতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় হাই কমান্ড তাকে মনোনয়ন দেননি। ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ইয়াহিয়া খাঁন কুতুবীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। এতে চরম ভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর চরম চড়াও হন এই সিরাজদৌল্লাহ।
কুতুবদিয়া তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, সিরাজদৌল্লাহ চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তার হাতে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়েছেন আওয়ামী পরিবারের অনেক নেতা-কর্মী। ২০১৩ সালে উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিককে প্রকাশ্যে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করেননি তিনি। এছাড়াও আওয়ামী পরিবারের বহু নেতা-কর্মীকে নির্যাতনের পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এমনকি তার নির্যাতনের কাছ থেকে রেহাই পায়নি ইউপি সদস্যরাও। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা তার নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি কখনও। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় উন্নয়নের বরাদ্দ জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিলিয়ে দেয়া ছাড়াও আর্থিকভাবে সব সুযোগ-সুবিধা দিতেন জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মীদের। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন ইউপি সদস্য ২০১৪ সালের ১০ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে এ জামায়াত নেতা সিরাজদ্দৌল্লাহর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এব্যাপারে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অংসা থোয়াই এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like