নাটকীয়তার ম্যাচে ভারতের জয়

invspak1456592539ক্রীড়া ডেস্ক: মোহাম্মদ আমিরের বোলিং না বিরাট কোহলির ব্যাটিং। কে জয়ী? পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ ছাপিয়ে মিরপুরে শুধু ছিল এ দুজনের লড়াই। ভারত ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতলেও আমিরকেও জয়ী ঘোষণা করতে হবে।

মাত্র ৮৪ রানের টার্গেট দিয়ে আমির যেভাবে বোলিং শুরু করেন তা মন ভরিয়ে দিয়েছে যেকোন ভারতীয়দের। প্রেসবক্সে পাশে বসা ভারতীয় সাংবাদিকও নিজেদের দেশের ক্রিকেটারদের আউটে হাততালি দিয়ে আমিরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

স্বল্প স্কোররের খেলায় দর্শকও খুশি। ৮৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে আমিরের প্রথম দুই ওভারের বোলিং স্পেল ছিল এরকম, ২-০-৩-৩। তার দূর্দান্ত বোলিংয়ে রোহিত শর্মা (০), অজিঙ্কা রাহানে (০) ও সুরেশ রায়না (১) সাজঘরে। ধারণা করা হচ্ছিল যে আমিরের বোলিংয়ে অন্তত পাকিস্তান জিতে যাবে।

কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করার জন্যে ক্রিজে তখনও টিকে ছিলেন বিরাট কোহলি। বিশ্বের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও যেভাবে টেমপাররেমন্ট ও ক্লাসের পরিচয় দিয়েছেন তা শুধু মন জয় করেনি, চোখও জুড়িয়ে দিয়েছে। তৃতীয় উইকেট হারানোর পর কোহলি-যুবরাজ স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৬৮ রান। সেখানেই জয় পায় ভারত।

জয়ের থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থেকে আম্পায়ারের ‘ভুল’ আউটের শিকার হন কোহলি। ১ রানের জন্যে ১৩তম হাফসেঞ্চুরি মিস করা কোহলি ক্রিজে দাঁড়িয়ে নিরবেই কেঁদেছিলেন। কোহলির পর শূন্য রানে ফিরেন হার্দিক পান্ডিয়ে।

আমিরের পর সামিই ম্যাচে এক ওভারে দুই উইকেট নেন। কোহলি না পারলেও যুবরাজ ১৪ রানে অপরাজিত থেকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সঙ্গে ছিলেন ৭ রান করা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের জন্যে বাজানো হয় শাহরুখ খানের ছবির ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ গানটি।

প্রায় ২০ হাজার দর্শকের সামনে তাতে সুর মেলান মহেন্দ্র সিং ধোনি এন্ড কোং। এর আগে শুরুতে যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হওয়ার কথা ছিল সেরকম কিছুই হয়নি। ভারতীয় বোলারদের দাপটে লণ্ডভন্ড পাকিস্তান। ৮৩ রানে অলরাউট ২০০৯ এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে এর থেকেও কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে তাদের। ২০১২ সালে দুবাইয়ে ৭৪ রানে শেষ হয় আফ্রিদিদের ইনিংস। দুবাই থেকে মিরপুরের মধ্যে শুধু একটি পার্থক্য বিদ্যমান। সেদিন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ১৬৮ রান তাড়া করতে গিয়ে আউট হয়। এবার বোলিং সহায়ক উইকেটে আগে ব্যাটিং করে ৮৩ এ শেষ।

সবুজ ঘাসের উইকেটে পেসার ও স্পিনাররা সমানতালে দূতি ছড়িয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমী ছিলেন হার্দিক পান্ডে। ৩.৩ ওভারে ৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ডানহাতি এ পেসার সাজঘরে ফেরত পাঠান মালিক (৪), সামি (৮) ও আমিরকে (১)।

অবশ্য শুরুটা করে দিয়েছিলেন নেহরা ও বুমরাহ। দুই ওপেনারকে; মোহাম্মদ হাফিজ (৪) ও শারজিল খান (৭)। তিনে নামা খুররাম মনজুর ১০ রানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিলেও বিরাট কোহলির অসাধারণ থ্রোতে তাকে হার মানতে হয়। এরপর মালিক ও আফ্রিদি ফিরে যান দ্রুত। মালিক হার্দিকের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিলেও আফ্রিদি জাদেজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আউট হন।

মিড অনে ঠেলে দিয়ে দুই রান নিতে গিয়ে জাদেজার নিখুঁতে থ্রো ও ধোনির অসাধারণ কিপিংয়ে রান আউট হন আফ্রিদি। সেখানেই শেষ পাকিস্তান। এরপর উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান সারফরাজ আহমেদেরে সর্বোচ্চ ২৫ রানে পাকিস্তান সর্বনিম্ন রানের লজ্জা এড়ায়।

৫ উইকেটের জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করে ভারত। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ভারতের জয় ৬টিতে। পাকিস্তানের মাত্র ১টিতে। ১টিতে ফল নির্ধারণ হয় বল আউটে। সে ম্যাচেও জয় পেয়েছিল ভারত। সে হিসেবে ৭টির ৬টিতেই জয় ভারতের।  অপ্রতিরোধ ভারত। গানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলাই যায় ‘চাক দে ইন্ডিয়া’।

-রাইজিংবিডি

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like