অভিযোগের অপেক্ষায় ইসি

election_comission1456479015রাইজিংবিডি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচারণ বিধি লংঘন, মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধাসহ নানা কর্মকাণ্ডের লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গত মঙ্গলবার বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি দল আরো বেশি সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত শতাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কেউ যদি আচারণবিধি ভঙ্গ করে বা বাধার সৃষ্টি করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমি এর আগে বলেছি নির্বাচনে কেউ অপরাধ করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তবে সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে অবশ্যই লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। তাহলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও টিভিতে নিউজ পড়েছি এবং দেখেছি যে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের এক নেতা অভিযোগ করেছেন তাদের প্রার্থীদের নাকি মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের কাছে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। আমরা তো নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে আগেই বলেছি যে লিখিতভাবে আমাদের কাছে অভিযোগ করুন। কিন্তু আমার জানা মতে কেউ এখনো পর্যন্ত ইসিতে অভিযোগ করেনি।

তিনি বলেন, আমরা সব নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছি যে নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়। কেউ যেন বাড়তি সুযোগ না পায়। সে যে দলেরই হোক না কেন।

বিভিন্ন স্থানে সরকার দলীয় প্রার্থীরা বিরোধী দলের প্রার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি- এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, যদি কেউ এমন হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সজাগ রয়েছে। আশা করি কোনো অনিয়ম হবে না।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৩ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আমরা বৈঠকে বসবো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব তারা যেন তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে।

এছাড়া কমিশন সূত্র জানায়, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এবারেই প্রথম ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারদিনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে করে প্রতিটি ধাপে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেড় লক্ষাধিক সদস্য নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকে প্রাক-নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নির্বাচনপূর্ব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি, সন্ত্রাসী, মাস্তান ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতার, তাদের দৌরাত্ম্য রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম গ্রহণ, নির্বাচনী দ্রব্যাদি পরিবহন ও সংরক্ষণের নিরাপত্তা বিধান, নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য পরিবেশ তৈরি করা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ৭৩৮টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৭ হাজার ভোট কেন্দ্র রয়েছে। প্রথম ধাপের ইউপিসহ প্রতিটি ধাপের নির্বাচনে সাধারণ ভোট কেন্দ্রে পাঁচ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার মিলে মোট ১৭ জন ফোর্স মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ফোর্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ১৯ জন করে।

তবে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ইসি সচিবালয় থেকে নির্বাচনী বিধি মনিটরিংয়ে ভিজিল্যান্স ও পর্যবেক্ষক দল এবং আইনশৃংখলা রক্ষা সংক্রান্ত দল গঠন করা হয়নি। এতে করে প্রার্থী ও সমর্থকরা আচরণ বিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব শুরু করেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুধু আচরণ বিধি লঙ্ঘনই নয় অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

একাধিক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা উভয় সংকটে ভুগছেন। একদিকে আচরণ বিধি লঙ্ঘন অন্যদিকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও আবার ভিন্ন ঝামেলা। তাই যতটা শান্ত পরিবেশ রাখা যায় সেই প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

তাদের মতে, পৌরসভার নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ নেওয়ার পরে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। ফলে এবারে লিখিত অভিযোগের ক্ষেত্রেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে সারা দেশে ছয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রথম ধাপে আগামী ২২ মার্চ ৭৩৮ ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like