স্ত্রীকে লেখা হাজারো চিঠি প্রকাশ করবেন এরশাদ

রাজনীতি ডেস্ক: জীবনে হাজার হাজার চিঠি লিখেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর সেটা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। সামরিক জীবনে থাকার সময় সব কাজ শেষে প্রতি রাতেই চিঠি লিখতেন, লিখতেন ডায়েরিও। আর সেই চিঠি কিংবা ডয়েরিতে স্থান পেতো সুখ-দুঃখের কথা। প্রতিদিন চিঠি লিখতেন প্রিয়তমা স্ত্রীকেও।

সেই চিঠিগুলো তার কাছে রয়েছে। তবে কিছু হারিয়ে গেছে। তার কাছে থাকা সেই চিঠিগুলো প্রকাশ করতে চান বলেও জানান এই রোমান্টিক পুরুষ।

মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নিজের লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমার কর্ম আমার জীবন’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে এরশাদ এ কথাগুলো বলেন। নিজের শৈশব, কৈশোর, সামরিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা বইটিতে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট। আর এ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সমাজবিজ্ঞানী, লেখক, সাবেক মন্ত্রী ড. মীজানুর রহমান শেলী।

এরশাদ বলেন, ‘একটু আগে মফিজ বললেন- আমি স্ত্রীর কাছে চিঠি লিখতাম, আর্মিতে যখন ছিলাম বাংলা বলা নিষিদ্ধ ছিল। বাংলা লিখা নিষিদ্ধ ছিল। প্রতিরাত কাজের শেষে ডায়েরি লিখতাম। বাংলায় ডায়েরি লিখতাম। মনের কথা লিখতাম। দুঃখের কথা লিখতাম। স্ত্রীকে কতো ভালোবাসতাম। প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। প্রতিদিনেই চিঠি লিখতাম। এমন একটি দিন বাকি নেই যে, চিঠি লিখি নাই। হাজার হাজার চিঠি লিখেছি। সেই চিঠিগুলো আমার কাছে আছে। কিছু আমার স্ত্রী ফেলে দিয়েছে। আমি নিজেই যখন পড়ি, মুগ্ধ হই। এমন ভাষা কীভাবে করে লিখেছি। মানুষকে না ভালোবাসলে এতো সুন্দর লেখা যায় না। মানুষকে ভালোবাসি বলেই ভাষাকে ভালোবাসতে শিখেছি। এই ভাষাতে লিখছি। এই চিঠিগুলো যদি কোনোদিন সুযোগ হয় ছাপাবো। ছাপাবো কী না জানি না। অনেক অনেক অনেক চিঠি, প্রতিদিন লিখতাম। তাই একটা কথা বলি, আমি ভালো কাজও করিছি।’

নিজের কবিতা লেখার বিষয়টি উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘আমার ১৫টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। আমি কেন কবিতা লেখি, এটাও আমার পাপ। আমি কি প্রকৃতিকে ভালোবাসতে পারি না? আমি কি দেশকে ভালোবাসতে পারি না? প্রকৃতিকে ভালোবেসে, কোনো মেয়েকে ভালোবেসে, নদীকে ভালোবেসে, গাছকে ভালোবেসে আমি কী কবিতা লিখতে পারবো না? আমি সৈনিক ছিলাম। আমি লিখবোই।’

-বাংলামেইল

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like