ইউএনডিপির শুভেচ্ছা দূত হচ্ছেন মাশরাফি

masrafi-23.02ক্রীড়া ডেস্ক: আলোচনাটা সপ্তাহ দুয়েক ধরেই চলছিল। কাল সকালে ব্যক্তিগতভাবে সেটি জেনেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) শুভেচ্ছা দূত (জাতীয়) মনোনীত হয়েছেন তিনি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি এখনো, ঢাকাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ২৫ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনেই ইউএনডিপির শুভেচ্ছা দূত হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে।

জাতিসংঘের অধীনে অনেকগুলো উন্নয়নমূলক সংস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেছেন টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু। আর বর্তমানে একই কর্মসূচিতে দূতিয়ালি করছেন সাকিব আল হাসান, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ ও চিত্রনায়িকা আরিফা জামান মৌসুমী। তারও আগে জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও মোহাম্মদ আশরাফুল ইউনিসেফের হয়ে দূতিয়ালি করেছেন। তবে ইউএনডিপির দূতিয়ালি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে করতে যাচ্ছেন মাশরাফিই। এতে তিনি ব্র্যাকেটবন্দি হচ্ছেন ইথিওপিয়ার দূরপাল্লার দৌড়বিদ হাইলে জেব্রেসেলাসি, মালয়েশিয়ার স্কোয়াশ খেলোয়াড় নিকোল অ্যান ডেভিড, চাদের অ্যাথলেট নাজিমা কালটুমা ও পাকিস্তানের টেনিস খেলোয়াড় এইসাম উল হক কোরেশীর সঙ্গে।

গতকাল বিকেলে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে খবরটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিক্রিয়ায় মাশরাফি বলেছেন, ‘এটা তো নিঃসন্দেহে খুবই গর্বের বিষয়। আমার জীবনের অন্যতম সেরা অর্জনের একটি।’ ইউএনডিপি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার টেবিলেই জেনেছিলেন নিজের কর্মপরিধি, ‘মূলত যুববয়সীদের সুপথে রাখার পরামর্শই দিতে হবে আমাকে। তাদের সুপথে পরিচালিত করতে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।’ দায়িত্বটা মাশরাফির আরো ভালো লাগছে অন্য একটি কারণেও, ‘বিশ্বাস করেন আমি সব সময় চেয়েছি তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে। খেলা ছাড়ার পর জাতীয় দলের চেয়ে আমার বেশি আগ্রহ তরুণদের নিয়ে কাজ করার দিকেই। জাতিসংঘ থেকে যে দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে, সেটিও তরুণদের সঙ্গে। বলতে পারেন মনের মতো একটা কাজ পেয়েছি।’

সকালেই চাউর হয়ে যাওয়া খবরটি কাল দুপুরে অনুশীলনে আসার আগেই জেনে যান তাঁর সতীর্থরা। তাই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে মাশরাফিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ, ‘প্রথমে মাশরাফি ভাইকে শুভেচ্ছা জানাই। এটা অনেক বড় অর্জন। ওনার জন্য, আমাদের দলের জন্য, দেশের জন্য। জাতিসংঘের দূত হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এটা আমাদের সবার জন্য গৌরবের।’ এ গৌরবের মালিক তো অন্য কেউও হতে পারতেন। কেন মাশরাফিকেই বেছে নিল ইউএনডিপি, সে প্রশ্নের উত্তর ড্রেসিংরুমে-মাঠে পাওয়া মাশরাফিকে দেখার সূত্রে জানেন মাহমুদ, ‘ওনার তো অনেক গুণ আছে। আমার কাছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যেটা মনে হয়, তা ওনার লিডারশিপ। নেতৃত্বগুণটা অন্য রকম, তিনি চ্যাম্পিয়ন লিডার। এই গুণটাই আমাদের সবার থেকে ওনাকে আলাদা করে দিয়েছে। আমরা যারা কাছে থাকি, তারা অনুভব করি, দেখতে পাই। বাইরের কেউ হয়তো অতটা দেখতে পারে না। আমাদের পারফরম্যান্সেও মাশরাফি ভাইয়ের নেতৃত্বের ছায়া দেখা যাচ্ছে। আশা করি উনি আরো ভালোভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আমরাও যেন আরো ভালো ফল করতে পারি।’

ক্যারিয়ারের শেষটায় এসেই যেন প্রাপ্তির ধুম পড়েছে মাশরাফির জীবনে। ক্রিকেট দলের অবিসম্বাদিত নেতা, ক্রিকেট ছাড়িয়ে পুরো সমাজের কাছেই আদর্শ চরিত্র হয়ে ওঠা তিনি এবার জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির দূত হলেন। ক্রিকেট আর জীবনের সব অর্জনের মুকুট হিসেবে এ স্বীকৃতিটা পাওয়াই সম্ভবত বাকি ছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার!

-কালের কন্ঠ

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like