কর্মী নিয়োগ স্থগিত হলেও বৈধতা হারাবে না চুক্তি

বাংলামেইল: মালয়েশিয়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) বৈধতা হারাবে না। ঢাকা থেকে ফিরে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ত জায়েম।

ঢাকা সফরে এসে গত বৃহস্পতিবার কর্মী নিয়োগে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পরদিন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।

ঢাকায় সমঝোতা স্মারক সই এবং এর পরদিন কুয়ালালামপুরে উপপ্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও অস্পষ্টতা দেখা দেয়। তবে ঘোষণার একদিন পর ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ফিরে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ত জায়েম এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বৈধতা অক্ষুণ্ণ থাকার ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করলেন। আর ওই বিবৃতিটি কুয়ালালামপুরে থেকে প্রকাশিত স্টার অনলাইন প্রকাশ করেছে।

তবে মানবসম্পদ মন্ত্রীর বিবৃতিতে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে কি না সে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। সংক্ষিপ্ত ওই বিবৃতিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শুধু বলা হয়েছে, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করবে।

এদিকে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদির কর্মী নিয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যপক সমালাচনা ঝড় ওঠে। অনেকেই বলছেন, কর্মী সঙ্কটে শিল্প উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানায়।

উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদির ওই ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শ্রম বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী তান শ্রী রাফিদাহ আজিজও। শুক্রবার তিনি তার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলো থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’ এ বিষয়টিকে তিনি ‘ডিগবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সরকারের এ ধরনের নীতির ব্যাপারে প্রশ্নও তোলেন।

রাফিদাহ ফেসবুকে আরো লিখেন, ‘কী ঘটলো? কর্মী নিয়োগ ঘোষণা করার আগে কি তারা বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে নেয়নি? (সংশ্লিষ্ট বিষয়ে) সবপক্ষের মতামত নিতে কি কোনো আলোচনা করা হয়নি? অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে কি তারা আগে ভেবে দেখেনি?’

এ সিদ্ধান্তে দেশটির জনগণ সরকারের ওপর আস্থা হারাবে বলেও মন্তব্য করে রাফিদাহ আরো লিখেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্তে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা দ্বিধা এবং উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।’

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রিচার্ড রায়ত এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সমঝোতা স্মারকে সই করেন। ওই চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়া তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেবে বলে অনুষ্ঠানের পর জানানো হয়।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like