শনিবার অপারেশন, দোয়া চেয়েছেন বৃক্ষমানব

বাংলামেইল : আলোচিত বৃক্ষমানব (ট্রি-ম্যান) খুলনার পাইকগাছার আবুল হোসেনের প্রথম অপারেশন করা হবে আজ শনিবার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে বেলা ১১টায় আবুলের বৃদ্ধাসহ দুটি আঙ্গুলে অপারেশন করবেন চিকিৎসকরা। অপারেশনের পর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন আবুল ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম।

শুক্রবার বিকেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আগের চেয়ে একটু ভালো আছি। তবে অপারেশনের কথা শুনে অনেক ভয় লাগছে। আমার স্ত্রী হালিমা ও মেয়ে জান্নাত ফেরদৌস তাহিরা পাশে রয়েছে। বাবা ও মা রাতে ঢাকা আসবেন। সকালে আমার অপারেশন করা হবে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। অপারেশন যেন ভালোভাবে হয়।’

আবুল আরও বলেন, ‘ভালো হয়ে মেয়েটাকে স্কুলে ভর্তি করাবো। সে লেখাপড়া শিখে বড় হবে। এটাই আমার ইচ্ছা।’

আবুলের স্ত্রী হালিমা বলেন, ‘উনার (আবুল) জন্য দোয়া করবেন। শনিবার উনার অপারেশন। ডাক্তাররা কি করবেন কিছু জানি না। ভয় লাগছে। তবে শুনেছি আঙ্গুলের অপারেশন করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন উনি (আবুল)। অপারেশন করার মতো টাকা ছিল না। আজ মিডিয়া ও সরকারের সহায়তায় ফ্রি চিকিৎসা করাতে পারছি। আপনারা না থাকলে এ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতাম না। আমার আজ খুব ভালো লাগছে, যে উনি (আবুল) সুস্থ হয়ে উঠবেন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। উনি যেন সুস্থ হয়ে উঠেন সবাই এই দোয়াই করবেন।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আবুলের বৃদ্ধাসহ আরও একটি আঙ্গুলের অপারেশন করা হবে শনিবার বেলা ১১টায়। অপারেশন না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সদরের ৫নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের বাসিন্দা মানিক বাজনদারের ছেলে আবুল হোসেন। ২০০৫ সালে তার হাতে পায়ে আঁচিলের মত গোটা দেখা দেয়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে সেটি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। কয়েক বছরের মধ্যেই হাতের তালুতে ও পায়ে ধীরে ধীরে গাছের শ্বাসমূলের মত গজাতে থাকে। দুই হাতের তালু ও ১০ আঙ্গুল ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।

হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে আবুলের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানরা এগিয়ে আসলেও তা ছিল সীমিত। খুলনায় কলকাতার ডাক্তারসহ অনেক কবিরাজ দেখিয়েও লাভ হয়নি আবুলের। পরবর্তীতে আবুলের সার্বিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন এসএটিভির খুলনা প্রতিনিধি সাংবাদিক সুনীল দাস, অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারি ও চট্টগ্রামের চিকিৎসক ডা. শরফুদ্দিন। আবুলের দেখভালের জন্য এগিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের মাস্টার্স শেষ করা ছাত্র নিয়াজ মাহমুদ রনি। এরপর থেকে অনেকেই আবুলের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like