হাড়ের ভঙ্গুরতা : কারণ জানালেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক : অলস জীবনযাপন অস্টিওপোরোসিস অর্থাৎ হাড়ের ভঙ্গুরতাজনিত রোগের সম্ভাবনা ক্রমাগত বাড়িয়ে তোলে। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতি তিনজন নারীর একজন এবং প্রতি পাঁচ জন পুরুষের একজন অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হয়। এ রোগের প্রভাবে যেকোনো বয়সের ব্যক্তির পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বুধবার রাজধানীর ম্যারিয়ট কনভেনশন সেন্টারে ‘পেশেন্ট অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম অন অস্টিওপোরোসিস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এমন তথ্য দেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগীদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, ‘অস্টিওপোরোসিসি বলতে বুঝায় ছিদ্রযুক্ত হাড়। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক শারীরিক পরিবর্তন হয়। তেমনিভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়াও একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে, মাসিক বন্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ রোগকে প্রতিরোধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ করা। নারীদের ৪০ বছর পার হওয়ার পর অস্টিওপোরোসিস হবে, এটা মাথায় রেখেই জীবনযাপন করতে হবে। শরীরকে সব সময় অ্যাকটিভ রাখতে হবে। পুরুষদের ধূমপান, মদ্যপান পরিহার করতে হবে।’

বিএসএমএমইউএর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মইনুজ্জামান বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মানবদেহের হাড়ের গঠনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ফলে দিন দিন হাড়ের ঘনত্বও কমছে। এছাড়া দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য কারণে মানুষের কোমর ও হাঁটু অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ফলে মানুষ দ্রুত শয্যাশায়ী হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে এবং মানুষ পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

হাড়ের ভঙ্গুরতাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে সাধারণ জনগণকে অলস জীবনাচার পরিহার করে সক্রিয় থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা বলেন, সব সময় লিফট ব্যবহার না করে মাঝেমাঝে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠুন। টিভির রিমোট ব্যবহার না করে মাঝেমধ্যে উঠে গিয়ে টিভি বন্ধ করুন। দৈনিক হাঁটুন অথবা সাইকেল চালান। সাঁতার উৎকৃষ্ট ব্যায়াম, সুযোগ থাকলে সাঁতার কাটুন। শিশুদের টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট কিংবা ভিডিও গেমসের জগৎ থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করুন। তাদের খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিন। খেলাধুলা করলে শিশুদের শরীরের পেশীগুলো অ্যাকটিভ থাকবে।

এ সময় প্রবীণ চিকিৎসক ও জাতীয় অধ্যাপক এমআর খান বলেন, ‘রাজধানীতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য জায়গা নেই। যেটুকু আছে, তাও দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন গোষ্ঠী। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেসব খোলা জায়গা ও খেলার মাঠ আছে সেগুলো ব্যবহারের মত পরিবেশ সৃষ্টি করে দিন। খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিন। কেউ যেন দখল করে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে না পারে।’

বাংলাদেশ আর্থোপেডিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং ল্যাবএইড হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. এম আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ল্যাবএইড হাসপাতালের আর্থোপ্লাস্টি সেন্টার প্রায় আটশর বেশি কোমর ও হাঁটুর প্রতিস্থাপনের সফল অপারেশনে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকসহ কোমর ও হাঁটু প্রতিস্থাপন করা রোগীরা অংশ নেয়।

-বাংলামেইল

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like