অস্ত্র লুটের শংকা, রাতে থানা-ফাঁড়িতে কঠোর নিরাপত্তা

রাতে দায়িত্ব পালনের সময় অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট হওয়ার শংকা প্রকাশ করে টহল পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিএমপি। একইসঙ্গে রাতের বেলা থানা-ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় (কেপিআই) প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপেরও নির্দেশ দিয়েছে সিএমপি।

নগরীর সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি সিএমপি সদর দপ্তর থেকে এ বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।  সিএমপি কমিশনার মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডলের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান এ আদেশ জারি করেছেন।

সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য অতিরিক্ত উপ-কমিশনার, সহকারি কমিশনার এবং পরিদর্শক মর্যাদার ২৯ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্দেশনার সূচনায় একেএম শহীদুর রহমান এসব কর্মকর্তাদের টহল পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের হাত থেকে রক্ষায় সচেতন করতে নিয়মিত ব্রিফিং করতে বলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, টহলের দায়িত্বে যেসব পুলিশ সদস্য থাকেন তাদের সতর্ক করার বিষয়টি আমাদের রুটিন ওয়ার্ক।  তবে সরকারি সম্পদ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা বিধানে তাদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  এ বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছয় দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ছিনতাই প্রতিরোধের সময় কোন অবস্থাতেই টহল পুলিশ সদস্যরা পরস্পরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে পারবে না।  এসময় টহল পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষায় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

টহল পুলিশ সদস্যদের পরিচিত-অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার জন্য বলা হয়েছে।

মাঠে যাবার আগে নিজেদের হাতিয়ার ও গোলাবারুদ ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য বলা হয়েছে।

থানা-ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স, ইউনিট, কেপিআই’র অফিসে বা কম্পাউন্ডে কোন ময়লা-আবর্জনা থাকলে সেটা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।  এসব ময়লা-আবর্জনার স্তূপের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরা ককটেল-বোমা-বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখতে পারে বলে আশংকা করছেন সিএমপির কর্মকর্তারা।

থানা-ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স, ইউনিট, কেপিআই’র অফিসে রাতে কোন অবস্থাতেই অবাঞ্ছিত ও সন্দেহজনক লোকজন যাতে ব্রিফকেস, ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

এসব স্থানে রাতে প্রবেশের সময় যে কাউকে ভদ্রোচিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারপর প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।  তবে কোন অবস্থাতেই হয়রানি করা যাবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা পর্যবেক্ষণের জন্য যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রতি রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রাতে নগর পুলিশের চার জোনের উপ-কমিশনার, গোয়েন্দা বিভাগের ডিউটি অফিসার এবং বিশেষ শাখার সহকারি কমিশনার ও পুলিশ লাইনে দায়িত্বরত পরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like