ক্যাশ মেশিনে স্কিমিং জালিয়াতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

tips-for-paying-off-credit-card-debt

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকদের অজান্তে টাকা তুলে নেয়ার যে ঘটনা ঘটেছে, তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘স্কিমিং জালিয়াতি’ বলে মনে করছে।

গত শুক্রবার ইস্টার্ণ ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বেশ কিছু গ্রাহকের একাউন্টে গচ্ছিত টাকা তুলে নেয় জালিয়াতরা। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর এই এটিএম বুথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

সাংবাদিক মাহবুবা আক্তার এই জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ফোনে কয়েকটি ক্ষুদে বার্তা দেখতে পান, যেখানে বলা হয়েছে তার বাসা থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরের দুটি এটিএম বুথ থেকে দুই দফায় আশি হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

শেওড়াপাড়ার এটিএম বুথ থেকে ভোরবেলায় যখন এই টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটছিল, মাহবুবা আক্তার তখন তার বাড্ডার বাসায় ঘুমিয়ে, তার এটিএম কার্ডটিও নিজের ব্যাগেই ছিল।

মাহবুবা আক্তার বিষয়টি ইস্টার্ণ ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিসকে জানান এবং এরপর তার কার্ডটি ব্লক করে দেয়া হয়।

ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে শুক্রবার এমন একুশ জন গ্রাহকের এটিএম কার্ড থেকে এভাবে অর্থ হাতিয়ে নেবার ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পারছে বাংলাদেশ ব্যাংক, সব মিলে খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ দশ লাখ টাকার উপরে।

এ নিয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক কতৃপক্ষের বক্তব্য জানতে ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ওইদিন ইস্টার্ন ব্যাংক ছাড়াও আরো বেশ কিছু ব্যাংক থেকে এভাবে অর্থ হাতিয়ে নেবার অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বলছেন, তারা জানতে পেরেছেন কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম মেশিনে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ লাগিয়ে রেখেছিল কেউ। যে দুই-তিন দিন এই ‘স্কিমিং ডিভাইস’ লাগানো ছিল, সেসময় যে গ্রাহকরা এই মেশিনগুলো ব্যবহার করেছেন তাদের কার্ডের তথ্য চুরি হয়ে গেছে।

“কার্ডের তথ্য চুরি করে সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্লোন-কার্ড তৈরি করা যায়। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তারা যদি এই ক্লোন কার্ডের পিন নাম্বারও জোগাড় করতে পারে, তাহলে কার্ডটি ব্যবহার করে তারা টাকাও তুলে নিতে পারে। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি এরকমই কিছু আসলে ঘটেছে।”

শুভংকর সাহা জানান, তাদের এই ধারণার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে কিছু তথ্যও তারা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সব ব্যাংককে এই ‘স্কিমিং জালিয়াতি’র বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে।

“আমরা সব ব্যাংককে ইমেল করে বলেছি তাদের এটিএম বুথগুলোতে এরকম কোন স্কিমিং ডিভাইস কেউ লাগিয়ে রেখেছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে।”

তিনি আরও বলেন, যাদের কার্ড এভাবে জালিয়াতি হয়েছে, সেই সব গ্রাহককে অবিলম্বে জানিয়ে পুরনো কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড দেয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শুভংকর সাহা বলেন, “শুধু ইস্টার্ন ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকেও তারা গ্রাহকদের টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন।”

তবে অন্য বাংকগুলোর নাম জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের নামে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ লাখ ডেবিট কার্ড এবং পাঁচ লাখ ক্রেডিট কার্ড।

অন্যদিকে দেশ জুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় সাত হাজার এটিএম বুথ রয়েছে।

সূত্র বি বি সি

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like