হুমায়ুন ফরীদি: নক্ষত্র পতনের চার বছর

বিনোদন ডেস্ক: ‘অভিনয় ছাড়া জীবনে কিছু করতে চায়নি। চতুর্দিকে নৈরাশ্য তবু কখনো আশা ছাড়তে দেখিনি। আশায় আশায় আয়ু ফুরিয়ে গেলো। অসাধারণ একজন অভিনেতার জন্ম হয়েছিল। এমনই দূর্ভাগ্য, গিজ গিজ করা অতি সাধারণের ডোবায় খাবি খেতে খেতে তলিয়ে যেতে হলো। অকালপ্রয়াত বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা। বন্ধু, ক্ষমা করিস। ডোবার হাঁটু জলে জীবনপাত হয়ে গেলো, সহস্র পদ্মের হাসি ভাসানো একটা দীঘি বা একটা পুকুরও সবাই মিলে কাটতে পারিনি…’। বাংলাদেশের অভিনয় জগতে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বললে একটুও অত্যুক্তি হয় না যাকে, সেই তুমুল মেধাবী আর একই সঙ্গে ব্যাপক জনপ্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যই করলেন বন্ধু ও তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন।

আজ ১৩ই ফেব্রুয়ারি। ২০১২ সালের ঠিক এই দিনেই আমরা হারিয়েছি আমাদের প্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি’কে।অথচ তিনি আছেন আমাদের হৃদয়ে। মঞ্চ দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখলেও ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় দক্ষতায় হুমায়ুন ফরিদি অভিনয়ের সবস্তরেই বিচরণ করেন। ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলত সে উৎসবের মাধ্যমেই তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন। এরপর তিনি গণমাধ্যমে অনেক নাটকে অভিনয় করেন।

নব্বইয়ের শুরুতেই চলচ্চিত্রে যাত্রা করেন হুমায়ুন ফরীদি। মঞ্চ আর নাটকের মত এ মাধ্যমেও নিজের কারিশমা দেখাতে সমর্থ হন। বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন এ মাধ্যমটিতেও। বলা হয়ে থাকে যে, শুটিংস্থলে অভিনেতার তুলনায় দর্শকেরা হুমায়ুন ফরীদির দিকেই আকর্ষিত হতো বেশি। বাংলাদেশের নাট্য ও সিনেমা জগতে তিনি অসাধারণ ও অবিসংবাদিত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত সংশপ্তক নাটকে ‘কানকাটা রমজান’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন।

সন্ত্রাস, দহন, লড়াকু, দিনমজুর, বীর পুরুষ, বিশ্ব প্রেমিক, আজকের হিটলার, দুর্জয়, শাসন, আঞ্জুমান, আনন্দ অশ্রু, মায়ের অধিকার, আসামী বধু, একাত্তরের যীশু, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, প্রবেশ নিষেধ, ভণ্ড, অধিকার চাই, মিথ্যার মৃত্যু, বিদ্রোহী চারিদিকে, মনে পড়ে, তোমাকে, মাতৃত্ব, The Motherhood, টাকা, ব্যাচেলর, জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া, আহা!, মেহেরজানের মত অসংখ্য বাণিজ্যিক আর শিল্পিত সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে বার বার একজন মেধাবী অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে হুমায়ুন ফরিদী দুবার বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮০’র দশকে। ‘দেবযানী’ নামের তার এক মেয়ে রয়েছে এ সংসারে। পরবর্তীতে বিখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফাকে তিনি বিয়ে করলেও তাদের মধ্যেকার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে ২০০৮ সালে। ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন হুমায়ুন ফরীদি। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে সম্মাননা প্রদান করেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি। বাংলায় পয়লা ফাল্গুন। চারদিকে রঙ বেরঙের ছড়াছড়ি। অথচ এইসব রঙের মাঝে নাই একজন হুমায়ুন ফরিদি। তাকে নিরন্তর ভালোবাসা…

-বাংলামেইল

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like