ব্ল্যাকহোল হতে পারে বিদ্যুতের অন্যতম উৎস

তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ডেস্ক: পৃথিবীব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছেই। সে অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ছে না। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে আশার কথা শোনালেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তিনি বলেন, ব্ল্যাকহোল হতে পারে বিদ্যুতের অন্যতম উৎস।’

হকিং দাবি করেন, পৃথিবীকে ঘিরে যে ব্ল্যাকহোল রয়েছে তা দিয়ে সারা পৃথিবীর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। যদিও এখনো পর্যন্ত অনেকগুলো ব্ল্যাকহোল আবিষ্কৃত হয়নি এবং নিশ্চিতভাবে এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষ এখনও পর্যন্ত এই উৎসগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়।

তবে এ ধরণের শক্তির উৎসের কথা বর্ণনা করে স্টিফেন হকিং ইতোমধ্যে জিতে নিয়েছেন নোবেল পুরষ্কার।  ক্ষুদ্র এই ব্ল্যাকহোলগুলো পর্বতের সমান হয়ে শক্তিশালি রশ্মিকে ঘিরে রয়েছে বলে স্টিফেন হকিং জানিয়েছেন।

স্টিফেন হকিং তার বক্তব্যে বলেন, ‘একটি পর্বতসম ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত এক্সরে এবং গামা রশ্মি ১০ মিলিয়ন মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে, যা পৃথিবীর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম।’

কিন্তু শক্তি ধারণ ক্ষমতা ছাড়া ব্ল্যাকহোলের শক্তি ব্যবহার পৃথিবীর জন্য বিপদজনক হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ব্ল্যাকহোল থেকে শক্তি সঞ্চয় করা এতটা সহজ বিষয় নয় । আপনি ব্ল্যাকহোলের এই শক্তি কোথাও ধারণ করে রাখতে পারবেন না। এই শক্তি মাটিতে আছড়ে পরবে এবং পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আমাদের নিরাপদ দুরত্বে থেকে শক্তিটি ধারণ করতে হবে যাতে নিরাপদও থাকা যায় সঙ্গে সঙ্গে শক্তিও সংরক্ষণ করা যায়।’

স্টিফেন হকিং আফসোস করে বলেন, ‘মানুষ মিনি ব্ল্যাক হোলগুলো অনুসন্ধান করে যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত আশানুরুপ কোন ফলাফল পাওয়া যায় নি। দুঃখের বিষয় হল সেগুলো যদি খুঁজে পাওয়া যেতো তাহলে আমি আরও একটি নোবেল পুরষ্কার পেতাম।’

সম্ভাবনার কথা বলে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেন, ‘অন্য আরেকটি সম্ভাবনা হলো, আমরা যদি স্থান ও কাল ভেদে  অতি ক্ষুদ্র ব্ল্যাকহোল তৈরি করতে পারি তা আমাদের বিদ্যুৎ শক্তি যোগান দেবে।’

-বাংলামেইল

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like