‘শিশু হত্যাকারীদের কোন ক্ষমা নেই’

pic-gar-ramu-08-02-15সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ০৮ ফেব্রুয়ারি : রামুর গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামের সহোদর শিশু শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান শাকিল ও মোহাম্মদ হোছাইন কাজলের হত্যাকারীদের কোন ক্ষমা নেই মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল।
সোমবার বিকেল ৫টায় গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামে আয়োজিত হাসান-হোছাইন হত্যার প্রতিবাদ ও শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রামুর ইতিহাস সম্মানের। রামুর মানুষ সব সময় সম্মান এনে দিয়ে রাজনীতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছে। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি উন্নয়নের ব্যাঘাত ঘটাতে তৎপর।
আবেগ আপ্লুত হয়ে সংসদের শ্রেষ্ট বক্তা সাইমুম সরওয়া আরো বলেন, ইসলামের ইতিহাসে প্রথম কারবালার প্রান্তে হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোছাইনকে হত্যা করা হয়েছিল। ঠিক তেমনি ভাবেই কয়েক হাজার বছর পর রামুর গর্জনিয়ার হাসান-হোছাইনকে হত্যা করেছে অপরাধীরা। যা খুবই লজ্জাজনক। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ ছাড় পাবে না। তাদেরকে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
বড়বিলের সমাজসেবক ইউনুছ মাতবরের সভাপতিত্বে ও আয়ামীলীগ নেতা ইয়াহিয়া চৌধুরীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ কায় কিসলু, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুরুল ইসলাম, গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী, গর্জনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়–য়া, উপজেলা সৈনীকলীগের সভাপতি ইউনুস খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক, বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনিছুর রহমান, গর্জনিয়ার বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা হাবিব উল্লাহ চৌধুরী প্রমূখ।
প্রতিবাদ সভায় শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শপথ নেন। আলোচনা সভা শেষে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল নিহত হাসান-হোছাইনের পিতা মোহাম্মদ ফোরকান ওরফে মিন্টুকে সমবেদনা জানিয়ে নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশ-জনতার উদ্ধার অভিযান চলাকালে অপহরণকারিরা রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকানের বড় ছেলে মোহাম্মদ হাসান শাকিল (১০) ও মোহাম্মদ হোছাইন কাজল (০৮)কে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহত হাসান বাইশারী শাহ নুরুদ্দিন মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির এবং হোছাইন নারিজবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।
অপহরণের পর দুই শিশুকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ফুসে উঠেছে গর্জনিয়াবাসী। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা।
সহোদর দুই শিশু হত্যাকারিদের ফাঁসি এবং শিশুদের নিরাপত্তার দাবিতে ২৪ জানুয়ারি গর্জনিয়ায় মানবন্ধন-সমাবেশ করেছে শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এর আগে ২১ জানুয়ারি বেলা ১২টার দিকে গর্জনিয়ার বড়বিলে হাসান-হোছাইন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। এসময় আটককৃত ও পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।
পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ১২ জনের মধ্যে ৯ জনকে গত ২১ জানুয়ারি দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিয়িশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে দশ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কায় কিসলু। রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক নিশাদুজ্জামান ৮ আসামীর বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
তারা হলেন, গর্জনিয়া ১নং ওয়ার্ডের বড়বিল এলাকার আব্দু শুক্কুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃত মো. নবীর ছেলে ইমাম হোসেন ওরফে টুইল্যা, আমির হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন, আব্দুল্লাহ, মো. ইউনুস, রুমান উদ্দিন ওরফে নোমান, লাইলা বেগম ও রশিদা বেগম। রিমান্ড চালাকালিন সময়ে ২৪ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিয়িশাল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাদুজ্জামানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে দুই সহোদর হত্যার দায় স্বীকার করেছে মামলার অন্যতম আসামী জাহাঙ্গীর।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like