ছাত্রদলের ঐতিহাসিক কমিটি!

Student_Leage1454875602রাজনীতি ডেস্ক: প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র মেনে নির্দিষ্ট সংখ্যক পদে পদায়ন করা হলেও এবার সব রেকর্ড ভেঙে ‘ঐতিহাসিক কমিটি’ গঠন করেছে সংগঠনটি! প্রথাগত নিয়ম থেকে বেরিয়ে গঠনতন্ত্র না মেনে সর্বোচ্চ ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে ওই কমিটি অনুমোদনও দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এত বড় কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের ভেতরে-বাইরে এরই মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘কার্যকর ভূমিকা’ রাখতে ব্যর্থ ছাত্রদলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করে বিএনপির হাইকমান্ড। গত ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

২০১ সদস্যবিশিষ্ট ওই আংশিক কমিটির মধ্যে সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকম-লী মিলিয়ে ১৫৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই সময়ে ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে ৩৪ জনকে সহসভাপতি, ৩৫ জনকে যুগ্ম সম্পাদক, ২৭ জনকে সহসাধারণ সম্পাদক, ২৮ জনকে সহসাংগঠনিক ও ২৬ জনকে সম্পাদকমন্ডলীর বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তাতে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়।

ওই আংশিক কমিটি ঘোষণার পরপরই কমিটিতে জায়গা না পাওয়া নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ বিদ্রোহ করে। দুটি পক্ষ সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে। তবে পদবঞ্চিতদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে- বিএনপির হাইকমান্ডের এমন আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অবশেষে দীর্ঘ ১৫ মাস পর শনিবার রাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওই কমিটিতে গঠনতন্ত্র না মেনে ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অথচ ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্রের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি ১২ জন (কেন্দ্র থেকে ছয়জন, বিভাগীয় ছয়জন), সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক দুজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পাঁচজন, সাংগঠনিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছয়জন, প্রচার সম্পাদক, সহ-প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সহ-দপ্তর সম্পাদক ৫৬ জন ও ৯৫ জন সদস্যসহ ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি থাকবে।’ ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করার নিয়ম থাকলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাত্রদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কমিটিতে যারা পদ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশের ছাত্রত্ব নেই। রয়েছেন বিবাহিতরাও। তাছাড়া যাদের বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে খোঁজ ছিল না, তাদেরকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি নেতাকর্মীদের। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় সংসদ হওয়ার বিধান থাকলেও পদবঞ্চিতদের যুক্ত করতে কমিটির পরিধি কয়েকগুণ বাড়ানো হয় বলে সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্য।

এদিকে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবির হলসমূহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজকে কেন্দ্রীয় সংসদের অধীনে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নতুন সমালোচনা ও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

নেতাকর্মীরা বলছেন, আগে কলেজগুলোর সাংগঠনিক মান ছিল থানা পর্যায়ের। কিন্তু চলতি কমিটিতে বেশ কয়েকটি কলেজকে জেলা পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সঙ্গে বিষয়টি সাংঘার্ষিক হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং জেলা কমিটিগুলো এতদিন জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক পদমর্যাদা পেয়ে আসছে। সেখানে কলেজগুলোর এই সাংগঠনিক মান বাড়ানোর বিষয়টি অস্বস্তি ছড়াচ্ছে সংগঠনটির মধ্যে। বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না অনেকে। ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও আড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

-রাইজিংবিডি

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like