শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ

Hasina1454844956রাইজিংবিডি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে বোমা পুঁতে রাখার মামলায় তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেটসহ দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষীরা হলেন- তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব প্রবীর কুমার চক্রবর্তী এবং জব্দ তালিকার সাক্ষী আতিয়ার রহমান। এ নিয়ে মামলাটিতে ৫৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। সাক্ষী প্রবীর কুমার ২০০০ সালের দিকে গোপালগঞ্জ জেলায় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট পদে থাকার সময়ে সারোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন এবং আহমেদ হোসেন নামে মামলার তিন জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছিলেন। এ সম্পর্কেই রোববার তিনি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
মামলাটিতে ৮৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাক্ষ্য দেওয়া ৫১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪১ জনের সাক্ষ্য গোপালগঞ্জের আদালত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলেও এ পর্যন্ত গত ৫ বছরে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ করার কথা ছিল। ওই সমাবেশের প্যান্ডেল তৈরির সময় ২০ জুলাই ওই কলেজের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ঘটনার মামলায় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্য আসামিরা হলেন- মো. এহিবুল্লাহ, মুন্সি ইব্রাহিম, মো. মাহমুদ আজহার, মো. রাশেদ ড্রাইভার, মো. শাহ নেওয়াজ, মো. ইউসুফ, মো. লোকমান, শেখ মো. এনামুল ও মো. মিজানুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মুফতি আব্দুল হান্নান আফগানিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে তিনি তালেবানদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। তিনি দেশে ফিরে হরকাতুল জেহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ নামক সংগঠনের সদস্য হন। তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য গোপালগঞ্জের বিসিক এলাকায় অবৈধভাবে সোনার বাংলা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি সাবানের কারখানা স্থাপন করেন। সে কারখানায় আসামিদের নিয়োগ প্রদান দেন এবং সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন। সাবান তৈরির কাঁচামাল আনার আড়ালে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীরা বোমা তৈরির উপকরণ কারখানায় এনে রাখতেন। প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আসার কথা শুনে মুফতি হান্নানসহ আসামিরা সাবান কারখানায় শক্তিশালী বোমা তৈরি করেন। বোমা তৈরির পর ২০০০ সালের ১৯ জুলাই সাবান কারখানার গাড়িতে করে কোটালীপাড়া এলাকায় নিয়ে রাতের আধারে পুঁতে রাখেন।

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like