দেশ আজ বাক-সহিংসতায় পর্যুদস্ত : কামাল লোহানী

বাংলামেইল: বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উদীচী সভাপতি কামাল লোহানী বলেছেন, দেশটা আজ দুটো অসম পক্ষের ক্ষমতাতাড়িত প্রতিযোগিতা ও বাক-সহিংসতায় পর্যুদস্ত। আর মানুষ অবাক দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা সমস্ত সঙ্কটকে এড়িয়ে কেবল উন্নয়নের বয়ান শোনাচ্ছে আর বিরোধী দলের ভূমিকায় যে দলটি রয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা সার্কাস পার্টি বা জোকারের চরিত্র ধারণ করেছে। অন্যদিকে যারা যথার্থ বিরোধী দল দাবি করতে পারে তারা একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে নিজেদের অনিশ্চয়তার হাতে তুলে দিয়েছে।

শুক্রবার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জাতীয় পরিষদ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনারকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কামাল লোহানী বলেন, ‘দেশের রাজনীতি আজ কূটচালে আবদ্ধ। সংস্কৃতি চ্যালেঞ্জের দ্বারপ্রান্তে। সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা আজ দেশের প্রধান শত্রু। এ অপশক্তির গোপন ও প্রকাশ্য আক্রমণ ও চক্রান্তের কারণে দেশের মানুষ আজ গিনিপিগে পরিণত হয়েছে। দেশের এমন দুঃসময়ে জাতি যাদের উপর ভরসা করতে পারতো সেই বামপন্থীরা বহুবিভক্ত, টুকরো টুকরো এবং জনগণ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন। যেটুকু শক্তি তাদের আছে তাও নগরকেন্দ্রীক। ফলে তাদের ডাকে সাধারণ মানুষ সাড়া দেয় না।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিতকিত মন্তব্য এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্যের জের টেনে লোহানী বলেন, ‘ ১৯৭১-এ পাক বাহিনীর বেধড়ক গণহত্যায় ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা ইতিহাসে গৃহীত, বিতর্কের উর্ধ্বে, সংবিধানে লিপিবদ্ধ। সেই স্বীকৃত সংখ্যা বিগম জিয়ার স্বামী জেনারেল জিয়া শুধু স্বীকারই করেননি নিজের লেখা প্রবন্ধে উল্লেখও করেছেন। তবু পাকিস্তানি জিন তার কাঁধে সওয়ার হওয়ায় বিকৃত কণ্ঠস্বরে খালেদা বিতর্ক তুলতে কুণ্ঠাবোধ করলেন না। তার সহচর গয়েশ্বর আরো একধাপ এগিয়ে ঔদ্ধত্বের সীমা ছাড়ালেন। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তিনি নির্বোধ সম্বোধন করলেন।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান এ সঙ্কটে সংস্কৃতিকর্মীদের মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। না হলে মৌলবাদী অপশক্তির চক্রান্ত ক্রমশই বাড়তে থাকবে। একে রুখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারায় প্রবাহিত করে রাজনীতিকে সত্য ও সততার পথে নিয়ে আসতে হবে।’

সারাদেশ থেকে আগত উদীচীর জাতীয় পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের ৯০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। সভা সঞ্চালন করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার। আগত জাতীয় পরিষদ সদস্যরা সভায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা করেন। সভায় আগামী ১৯ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক কনভেনশন সফল করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিল্পকলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক ওই কনভেনশনের উদ্বোধন করবেন বিপ্লবী কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল, কামাখ্য রায় চৌধুরী ও অধ্যাপক যতীন সরকার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। কনভেনশনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা নেপাল, ভিয়েতনাম, চীন, জাপানসহ ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like