শুটিং সেটে মৃত্যু হয়েছে যে তারকাদের

binodon1454505141বিনোদন ডেস্ক : অভিনয় করা বুঝি খুব সোজা কাজ? পর্দায় দেখতে অতটা সোজা মনে হলেও বাস্তবে এই সহজ দৃশ্যগুলোকেই সত্যিকারভাবে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারটা কিন্তু সহজ নয়।

চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় অনেক অভিনয়শিল্পী-ই শারীরিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন। আবার অনেকে-ই শুটিং সেটে মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও অনেক সময় মৃত্যুর গুজব শোনা যায়, যা পরবর্তীতে মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়।

তবে সত্যিই চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এমন কিছু তারকা রয়েছে, যারা শুটিং সেটে মৃত্যুবরণ  করেছেন। যদিও এদের অনেকের-ই স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে। সিনেমার কাজ অসমাপ্ত রেখে শুটিং সেটে মৃত্যুবরণ করেছেন এমন তারকাদের নিয়ে এ রচনা।

জন এরিক হেকসাম : সিবিএসের রোমাঞ্চ সিরিজে অভিনয় করতেন এই জনপ্রিয় তারকা। আর সেখানেই ১৯৮৪ সালে ছবির সেটে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পিস্তল থেকে বেরিয়ে আসা গুলিতে মাথার খুলি ফুটো হয়ে মৃত্যুর কোলে মাথা রাখেন জন। সে সময় কভার আপ নামে সিবিএসের সিরিজে অভিনয় করছিলেন তিনি। বেশ দেরী হচ্ছিল ছবির শ্যুটিংএ। কলাকুশলীরা অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় হাঠাৎ জানতে পারেন জন যে আরো অনেকটা দেরী হবে ছবির শ্যুটিং শুরু হতে। হাতের কাছে ছিল ফাঁকা পিস্তল। সেটাকে নিয়েই হাসতে হাসতে নিজের মাথার দিকে তাক করেন জন। আর গুলি আছে নাকি নেই সেটা পরীক্ষা না করেই টেনে দেন ট্রিগার। তারপরের ঘটনা? তাড়াহুড়ো করে জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়।  তবে লাভ হয়নি, ডাক্তারের শত চেষ্টার পরেও মারা যান এই অভিনেতা।

ভিক মরো : ১৯৮২ সালের জুলাই মাসের ঘটনা। টুয়ালাইট জোন: দ্য মুভি চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্যে পরিচালকের কথানুসারে হেলিকপ্টার আর পাইরোটেকনিকসের ব্যবহার করা হয়। যে দুটোর মিশেল আদতে কোন ভালো ফল বয়ে আনতেন না। তারপরেও পরিচালক চিত্রটি দৃশ্যায়ন করেন। দৃশ্যে দেখা যায়- মরো ও তার সাথের দুজন শিশু একটি হেলিকপ্টারে। যাকে আক্রমণ করেন আমেরিকান সৈন্যবাহিনী। হেলিকপ্টারটির লেজে একটা সময় আগুন লেগে যায় পাইরোটেকনিকস বিস্ফোরিত হওয়ার পরে। তবে সেটা নিয়ে পরিচালকের ভেতরে কোনরকম দুঃশ্চিন্তা দেখতে পাওয়া যায়নি। কারণ কোনরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থায় ছিল না তার। ফলে দূর্ঘটনায় মারা পড়েন মরো। সেই সাথে ওই দুই শিশু তো আছেই। পরবর্তীতে এটাও জানা যায়, আসলে ওই শিশু দুজনকে রাতের বেলা আবৈধভাবে কাজ করার জন্যে টাকা সরবরাহ করা হচ্ছিল। মুক্তির জন্য বেশ ঝামেলা পেরুতে হয়েছিল চলচ্চিত্রটির পরিচালককে। যদিও পরবর্তীতে মুক্তি পায় ছবিটি। বেশ ভালোভাবেই ধ্বসে পড়ে বক্স অফিসে।

জন রিটার : ২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, চলচ্চিত্রের কাজ করার সময় ছবির সেটে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা রিটার। তখন তার ৮ সিম্পল রুলস ফর ডেটিং মাই টিনেজ ডটার চলচ্চিত্রটির কাজ চলছে। সাথে সাথে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিত্সকেরা জানান যে, রিটারের হার্টে ছিদ্র রয়েছে। যা কিনা চিকিত্সাবিজ্ঞানের জন্যে বেশ বড় রকম ও দূর্লভ ঘটনা। বলা হয়েছিল, যে কোন সময় এটি আঘাত হানতে পারে রিটারের জীবনে। অবশেষে তাই হয়েছিল। সে দিন বিকালেই পুনরায় আঘাতে মারা যান রিটার। যদিও তার মৃত্যুর পর একবার ৮ সিম্পল রুলস ফর ডেটিং মাই টিনেজ ডটারের একটি অংশ মুক্তি পেয়েছিল।

টাইরন পাওয়ার : সলোমোন ও সেবা চলচ্চিত্রটির নির্মানের সময় হঠাত্ করেই হৃদযন্ত্রের সমস্যায় পড়েন টাইরণ। ১৯৫৮ সালের ১৫ মার্চ একবার হার্ট অ্যাটাক হয় তার সেটে বসেই। সাথে সাথে টাইরণকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তবে রাস্তাতেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৩৬ সালে লয়েডস অব লন্ডনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জীবনের সফলতার যাত্রা শুরু করেন টাইরণ। মুলত রাজা ডেভিসের ছোট ছেলে সলোমোন আর তার ভালোবাসা সেবাকে নিয়েই তৈরি হয়েছিল চলচ্চিত্রের গল্পটি।

রেড ফক্স : ফক্সের ঘটনাটিও অনেকটা টাইরনের মতোই। সেটের মাঝেই হঠাত্ বুকে ব্যথা এবং হার্ট অ্যাটাক হলে হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। মৃত্যুর সময় দ্য রয়াল ফ্যামিলি নামক একটি চলচ্চিত্রের কাজ করছিলেন ফক্স। মজার এবং নিদারুণ কষ্টের ব্যাপারটি হলো এ রকম একটি হার্ট অ্যাটাক করার দৃশ্য দিয়েই বিখ্যাত আর পরিচিত হয়েছিলেন রেড ফক্স।

ব্র্যান্ডন লি : বিখ্যাত মার্শাল আর্টের খ্যাতিমান পুরুষ ব্রুস লির ছেলে ব্র্যান্ডনের কথা বলছি। না, প্রাকৃতিক কোন কারণে নয় বরং অন্যের হাতে খুন হন ব্র্যান্ডন ছবির সেটে থাকাকালীন। ৩১ মার্চ ১৯৯৩ সালে দ্য ক্রো চলচ্চিত্রটির দৃশ্যায়ন চলছিল। সেখানে ব্র্যান্ডনের দিকে তাক করে একটা ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার কথা ছিল অন্য এক অভিনেতার। কিন্তু কে জানতো যে সেখানে নকল নয় বরং সত্যিকারের কোন বন্দুক এবং তার ভেতরে গুলিও রয়েছে? খুব বেশি সময় লাগেনি ব্র্যান্ডনের জীবন শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে। পুরো ব্যাপারটি নিয়ে সে সময় বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। যদিও একজন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল চলচ্চিত্রটির জন্য। এ জন্য ছবিটি মুক্তি দিতে বেশ বেগ পেতে হয় পরিচালকদেরকে। তবে ছবিটি বক্স অফিসে ভালো আয়ও করেছিল।

মার্থা ম্যান্সফিল্ড : নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ তখন। দ্য ওয়ারেন্স অব ভার্জিনিয়া চলচ্চিত্রটিতে কাজ করছিলেন মার্থা ম্যান্সফিল্ড। ছবির একটি দৃশ্যে একটি গাড়িতে বসেছিলেন মার্থা। একটি দৃশ্য নেওয়া শেষে গাড়িতেই বসে পরের দৃশ্যটির জন্যে তৈরি হচ্ছিলেন মার্থা। হঠাত্ ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক কিংবা দূর্ঘটনাবশত এক পথচারী পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরো ফেলেন। আর তা গিয়ে পড়ে গাড়ির ভেতরে। ঠিক মার্থার জামার ওপরে। দাহ্য ছিল জামার উপকরণগুলো। ফলে খুব একটা সময় লাগেনি মার্থার পুরোপুরি পুড়ে যেতে। জামাটি ছিল সেই যুদ্ধের সময়কার ফ্যাশনের। তাই খোলাও যায়নি সহজে। এরপর আর খুব বেশি সময় বাঁচানো যায়নি এই অভিনেত্রীকে। পরের দিনই হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯২৩ সালে মৃত্যু হয় মার্থারের।

-রাইজিংবিডি

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like