বিশ্ব ক্যান্সার দিবস আজ : দেশে বছরে আক্রান্ত দুই লাখ, মরছে দেড় লাখ

বাংলামেইল: বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ ক্যান্সার রোগী আছে। প্রতি বছর ২ লাখ মানুষ নতুন করে এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এবং দেড় লাখ মৃত্যুবরণ করছে। বাংলাদেশে মরণব্যাধির এমন চিত্রকে সামনে রেখে আজ ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস।

‘আমরা পারি-আমি পারি’ বিষয়টিকে প্রতিপাদ্য করে ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এই ঘাতক ব্যাধির প্রতিকারে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিতেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে।

কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন অধিক গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিবছর বিশ্বে ৮২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। আর এ মরণব্যাধিতে আক্রান্তদের অধিকাংশই বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক।

সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব এবং অর্থনৈতিক অবস্থাকেই বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্তসহ এ রোগে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রতিবেদনে।

এছাড়াও, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে সাড়ে ১০ কোটি নারী ভুগছে ব্রেস্ট ক্যান্সারে। সারা বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ ক্যান্সার। মানবশরীরের যে কোনো অঙ্গেই এ রোগ হতে পারে।

যেসব কারণে ক্যান্সার হয় : ধূমপান, পান-জর্দা-তামাকপাতা খাওয়া, সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, ব্যায়াম না করা, শারীরিক স্থূলতা বা বেশি ওজন, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি, এক্স-রে রেডিয়েশন, কিছু রাসায়নিক পদার্থ, কিছু ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণুকেই ক্যান্সার ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মরণব্যাধিতে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ রোগীর ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং তিন ভাগের ১ ভাগ ক্যান্সার প্রথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব।

তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বিশ্বে অকাল মৃত্যু, ক্যান্সারসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। তাই ‘ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবসকে সামনে রেখে এ দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটভুক্ত সংগঠন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, মানবিক, নাটাব, এনডিএফ, একলাব, এইড, অরুণোদয়ের তরুণ দল, স্বপ্নের সিঁড়ি, প্রদেশ, এলআরবি ফাউন্ডেশন’র এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র।

এ প্রসঙ্গে প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ বলেন, ‘বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী প্রদানের বিষয়টি বাধাগ্রস্থ করতে নানা কৌশলে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্ত আইন ও বিধিমালা অনুসারে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। জনস্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব তামাকজাত দ্রব্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নিশ্চিত করা হোক।’

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণের কার্যকরপন্থা ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী। যে দেশে যত বড় ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হয়, সেই দেশে তামাকের ব্যবহার তত কমছে। ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রয়োজন তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

উল্লেখ, বিশ্ব ক্যান্সার দিবস একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিপালিত দিবস। প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস বা বিশ্ব ক্যান্সার সচেতনা দিবস পালন করা হয়। এই দিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার রোগীদের জীবন ধারার মান উন্নয়নে ইন্টারন্যাশানাল ইউনিয়ন এগেনস্ট ক্যান্সারকে (International Union Against Cancer) সহায়তা করে থাকে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like