কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রাণের দাবি

News CoxBazar1454491014রাইজিংবিডি: ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতকে পাশে রেখে সৈকতের কোল ঘেঁষে তৈরী হয়েছে স্টেডিয়ামটি।

এবারের ১১তম যুব বিশ্বকাপের ১৭টি ম্যাচ শেখ কামালের ২টি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা এখনো তৈরী হয়নি। বিসিবির ইচ্ছে আগামী এক বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে স্টেডিয়ামটিকে তৈরী করা হবে। এর পরই চালু হবে বড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই শুরু হয়েছিল এই স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন এখানে সম্ভব হয়নি। বিশ্বকাপ না হলেও এখানে নিয়মিত ক্রিকেট আয়োজন হয়ে আসছে। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ‘এ’ দলের ম্যাচ, একাডেমি দলের সিরিজ, ঘরোয়া ক্রিকেট হচ্ছে নিয়মিত। বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেটারদের কন্ডিশনেং ক্যাম্পও হয়েছে এখানে। যুব বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ৭ দিন এখানে ক্যাম্প করেছে।

স্টেডিয়ামের অবকাঠামো পূর্ণ রূপ না পেলেও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা ও ভ্রমণ-বিলাসে কক্সবাজার এরই মধ্যে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রাণের দাবি কক্সবাজারবাসীর। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়নাভিরাম শেখ কামাল ক্রিকেট কমপ্লেক্সে যুব বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ পাননি সাধারণ দর্শক। বর্তমানে স্টেডিয়ামটি ১ হাজার ৬০০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। যুব বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে কেবল আমন্ত্রিত অতিথীরাই খেলা দেখেছে।

খেলা চালানকালীন সময়ে স্টেডিয়ামের গেটের বাইরে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে। স্থানীয় এক স্কুলছাত্র রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা বলে খেলা দেখতে আসলাম। আগেই জানিয়েছিল যে মাঠে ঢুকা যাবে না। তারপরও চলে আসলাম; কোনোভাবে যদি যাওয়া যায়! এদের খেলা দেখতে না পারলেও আমরা চাই জাতীয় দলের খেলা দেখতে। আমাদের দাবি পরবর্তীতে যেন জাতীয় দলের সিরিজ এখানে অনুষ্ঠিত হয়।’

শুধু স্কুল ও কলেজছাত্র নয়, স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ীও চেয়েছিলেন মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে। হোটেল ভিসতা বে রিসোর্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কলিমউল্লাহ বলেন, ‘পরিবারের সবাই চাচ্ছিল খেলা দেখতে। অনেক দিন পর ক্রিকেট হচ্ছে এখানে। সচরাচর পাড়া-মহল্লার কিংবা লিগের ফুটবল ম্যাচ হয় কক্সবাজারে। কিন্তু ক্রিকেট হয় না। এবার হলো, কিন্তু এত বাজে একটা ব্যবস্থা করল যে সবাইকে হতাশ করল। আমরা চাই দ্রুত এখানে সাকিব-তামিমরা খেলতে আসুক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখানে হলে কক্সবাজারের আরো সুনাম বৃদ্ধি হবে।’

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শুধুমাত্র নিরাপত্তার কারণে নয়, স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শক জায়গা দিতে পারবে না বলেই তো বিসিবি সাধারণ দর্শকদের মাঠে চায়নি। এজন্য এরকম নিয়ম। আমাদের স্থানীয় দর্শক খেলা দেখুক সেটা তো আমরা চাই। কিন্তু অবকাঠামোর বিষয়টাও তো দেখতে হবে। যুব বিশ্বকাপের পর শুনলাম এখানে অনেকদিন খেলা নেই। তখন বিসিবি নাকি স্টেডিয়ামটি সংস্কার করে নতুন করে তৈরী করবে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ পৃথিবীর বুকে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। সৈতকের পাশ ঘেঁষে তৈরী হওয়া স্টেডিয়ামটিতেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পাওয়ার দাবি কক্সবাজারবাসী।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like