নেপালকে নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

বাংলামেইল: ঘরের মাঠে চলমান যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দুরুন্ত ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা মিরাজ শিবির গ্রুপের শেষ ম্যাচেও দুর্দান্ত প্রতাপে জিতেছে। আগাম হুমকি দেয়া নামিবিয়াকে ৬৫ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক শিবিরই।

টানা তিন জয়ে গ্রুপ সেরা। এবার অপেক্ষা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য। যেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত চলতি আসরে চমক লাগানো দল নেপাল। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচটি। নেপাল তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও হিমালয় কন্যাকে নিয়ে দারুণ সতর্ক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।

এরআগে অনেকবারই পঁচা শামুকে পা কেটেছে জুনিয়র টাইগারদের। অনেক ভালো দল নিয়েও ছোটদের বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। তাই চলমান যুব বিশ্বকাপের শুরু থেকে দারুণ সাবধানী স্বাগতিকরা। নিজেদের গ্রুপে ছোট দলগুলোর প্রতি সমীহ করেই খেলেছে বাংলাদেশের যুবারা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্কটল্যান্ডের তুলনায় অনেক দুর্বল প্রতিপক্ষ ছিল নামিবিয়া। তার পরও মঙ্গলবার আফ্রিকার এই দলটিকে কোন প্রকার হাল্কাভাবে নেয়নি বাংলাদেশের তরুণরা।

মঙ্গলবার নামিবিয়াকে ৮ উইকেটে হারানোর পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক মিরাজ। আগামী শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের সামনে নেপাল। যদিও এরআগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর মিরাজ বলেছিলেন, নেপালকে পেলে সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তবে আজ সেই পথে আর হাঁটতে চাইলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের সামনে এবার নেপাল। এই সব দলের বিপক্ষেই আমাদের বেশি সাবধান থাকতে হবে। কারণ, এই দলগুলির বিপক্ষেই দুর্ঘটনা বেশি হয়। আমাদের লক্ষ্য থাকবে কোনো দুর্ঘটনা যাতে না হয়। তাই নেপালকে হালকা করে নেওয়া যাবে না। ঠিক পথে থাকলে সব দরজাই খোলা থাকবে আমাদের জন্য। ভারতের বিপক্ষে নেপালের ম্যাচটি আমরা দেখেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারলে নেপাল ভাল কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না।’

মঙ্গলবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নামিবিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ে শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে মিরাজ বাহিনী। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০০ ওভারের ম্যাচ বাংলাদেশের তরুণরা জিতে নিয়েছে ৫০ ওভারের আগেই। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে স্বাগতিকদের এই জয়ের আত্মবিশ্বাস অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন স্বাগতিক অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এমন জয়ে অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এই সব দলের সঙ্গে ভালো করতে না পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাস হয়ত কমে যেতে পারত। নামিবিয়ার বিপক্ষে বড় জয় আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’

গ্রুপ ‘এ’তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়ে আগেই শেষ আটে খেলা নিশ্চিত করেছিল নামিবিয়া। তাই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফ্রিকার এই দলের বিপক্ষে জয় পেতে আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা থাকে প্রথম ১০ ওভার করে ভাগ ভাগ করে খেলা। এখানে যেরকম উইকেট তাতে আমাদের পরিকল্পনা ছিল রান কম হলেও প্রথম ১০ ওভারে উইকেট দেওয়া যাবে না। আমাদের টপ অর্ডারের পিনাক, সাইফ ও জয়রাজকে নির্দেশনা দেয়া ছিল শুরুতে সময় নিয়ে খেলতে।’

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দলের যে পরিকল্পনা ছিল তা বাস্তবায়ন করতে পারায় দলও সহজ জয় পেয়েছে বলে মনে করছেন মিরাজ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘নামিবিয়ার কয়েকজন ব্যাটসম্যানের খেলা আমরা দেখেছি। ওদের দলের কয়েকজনকে খুবই আক্রমণাত্মক খেলতে দেখেছি। একই সঙ্গে ওদের দু-একজন বোলারও বেশ ভালোমানের ছিল। তাই আমরা ম্যাচের শুরু থেকে সতর্ক ছিলাম। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারায় আমরা নামিবিয়ার বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছি।’

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like