বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে অর্থ নিলে ব্যবস্থা

tarana_BG_805265458

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর: বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিমকার্ড নিবন্ধন-পুনঃনিবন্ধনে অর্থ নিলে কালো তালিকা করে রিটেইলারশিপ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারানা হালিম বলেন, অপারেটরদের বলা হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন এড়াতে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োমেট্রিক তথা আঙুলের ছাপ নিয়ে সিম নিবন্ধন শুরু হয়।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম/রিম নিবন্ধনে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গ্রাহকদের সমস্যা নিয়ে বিটিআরসি এবং অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তারানা হালিম। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে অর্থগ্রহণসহ নানা অভিযোগ করেন গ্রাহকরা।

প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সে সমস্যাগুলো বৈঠকে তুলে ধরার পর প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, রিটেইলার পর্যায়ে অপারেটরদের অজ্ঞাতে পুনঃনিবন্ধনের জন্য গ্রাহকদের কাছে বাড়তি চার্জ করছেন।

‘সুস্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, কোনোরকম সিম/রিম রি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ দিতে হয়না। কিছু অসৎ রিটেইলার ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশ্য করছে। বিষয়টি অপারেটরদের কাছে তুলে ধরেছি, তারাও অভিযোগ পেয়েছেন। অপারেটররা রিটেইলারদের ইনটেনসিভ দিচ্ছেন। কাজেই গ্রাহক পর্যায়ে কোনোরকম ফিস বা বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’

‘তারপরও যেসব রিটেইলাররা বাড়তি অর্থ নিচ্ছে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ব্লাকলিস্ট করবেন এবং তার রিটেইলারশিপ ক্যান্সেল করা হবে। এভাবে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে যে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতারণার জন্য অপারেটররা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসি কোনো রকম ছাড় দেয়না।’

অপারেটরদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন, যাতে রিটেইলাররা ভয় পায়।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে ছোট অপারেটরদের প্রতি সিমে ৫০ পয়সা দিয়ে যন্ত্রটি শেয়ার করার জন্য মনোযোগী হওয়ার জন্য বলেন প্রতিমন্ত্রী।

কিছুক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ না মেলায় এনআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন-পুনঃনিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

‘যারা এনআইডি’র (জাতীয় পরিচয়পত্র) আবেদন করেছেন, যে নম্বর দিয়েছে তা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন। আর যারা পাননি যেকোনো ভেলিড ডকুমেন্ট- জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে করতে পারবেন। ৬ মাসের মধ্যে এনআইডি দিয়ে রিপ্লেস করতে হবে।’

টাইম ফ্রেমে এই নিবন্ধনের কাজ শেষ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত এই কাজ করতে চাই। অপারেটরদের টিম আছে, তারা আরও বেশি লোক নিয়োগ করবে, তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রান্তিক পর্যায়ে মনিটরিং আরও জোরদার হওয়া দরকার, কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, প্রথমে যখন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল, আজকে মনে হচ্ছে সঠিকভাবে অগ্রসর হয়েছি। প্রত্যেক অপারেটর বায়োমেট্রিক যন্ত্র আনার জন্য প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ করেছেন। যে কাজ শুরু করেছি সম্পন্ন করবো, কোথাও সমস্যা নেই।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর বলেন, রিটেইলাররা মিসগাইড করে থাকলে মনিটর করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিগনিফিক্যান্ট ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অপারেটরদের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গিয়াস উদ্দিন, রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সুপুন বীরাসিংহে, এয়ারটেলের সিইও পিডি শর্মা এবং অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like