সিন্দুকের টাকা-সোনার মালিক ‘চোরাচালানি’

মার্কেটের ছয়তলার যে দুটি কক্ষ থেকে সিন্দুকগুলো উদ্ধার করা হয় সেগুলো আবু আহম্মেদ নামে একজনের ভাড়ায় ছিল বলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার জানান।

রেয়াজুদ্দিন বাজারেও আবু আহম্মেদের দুটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে বলে জানান তিনি।

টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় আবু আহম্মেদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (খ) ধারায় মামলাটি করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আফতাব আহমেদ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালের শেষদিকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে আবু আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি অপহৃত হয়েছিলেন, যিনি এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পরদিন ফিরে আসেন।

অপহৃত ওই ব্যক্তি এই আবু আহম্মেদ বলে ধারণা করছেন তারা।

“আবু আহম্মেদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে,” বলেন উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার।

তিনি জানান, বাহার মার্কেটের ছয় তলায় ১৬টি কক্ষের মধ্যে ৪ ও ৮ নম্বর কক্ষ আবু ভাড়া করেছিলেন।

“৪ নম্বর কক্ষে সিসি ও আইপি ক্যামেরা ছিল। ৮ নম্বর কক্ষ থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

সোমবার ৪ নম্বর কক্ষ থেকে বের করা দুটি সিন্দুকের একটিতে ২৫০টি সোনার বার এবং অন্যটিতে ৬০ লাখ টাকা পায় পুলিশ। আর ৮ নম্বর কক্ষ থেকে জব্দ করা সিন্দুকে কিছু পাওয়া যায়নি।

ওই টাকাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে জানিয়ে বাবুল আক্তার বলেন, “আবু আহম্মেদের কয়টি ব্যাংকে হিসাব আছে সেগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এছাড়া কক্ষগুলো থেকে জব্দ করা হিসাবের কাগজপত্রে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণ রয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাবুল জানিয়েছেন।

এখন ওই দুই কক্ষ থেকে জব্দ করা কম্পিউটার ও হার্ডডিস্কে কী আছে তা দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রেয়াজুদ্দিন বাজারে স্বর্ণ ছাড়াও হুন্ডি, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু সিন্ডিকেট আছে, যার একটির নিয়ন্ত্রক আবু আহম্মেদ।”

“তিনি মূলত সোনার বার ও হুন্ডি চক্রের সঙ্গে জড়িত।”

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like