শাহ এএমএস কিবরিয়ার একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন তিনি। ওই হামলায় তিনিসহ পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অন্তত ৭০ জন।

দিনটিকে স্মরণে ঢাকা ও হবিগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া জানান, বৈদ্যের বাজারে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন রয়েছে। পৃথকভাবে এ কর্মসূচিগুলো পালন করবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন এবং কিবরিয়া স্মৃতি সংসদ।

এছাড়া ঢাকায় তার কবরস্থানে সকালে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন কিবরিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

তবে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি পালন করা হবে না বলে জানিয়েছেন কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া।

ঘটনার দিন বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভায় তৎকালীন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে নেমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফটকে আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়।

অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত অন্যরা হলেন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।

ঘটনার পরদিন তৎকালীন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাংসদ আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।

সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ ১ম অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তখন মামলার বাদী আবদুল মজিদ খান ২০০৬ সালের ৩ মে সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন খারিজ করলে ১৪ মে তিনি হাই কোর্টে আপিল করেন। আপিলের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ‘কেন অধিকতর তদন্ত করা যাবে না’ তার ব্যাখ্যা চায় সরকারের কাছে। এই রুলের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৮ মে লিভ টু আপিল করে সরকার। আপিল বিভাগ সরকারের আপিল খারিজ করে।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে।

তিনি ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে যুক্ত করে মোট ২৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেন।

২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া অভিযোগপত্রে হবিগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার মূল নথি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে থাকায় বিচারক উপনথির মাধ্যমে আবেদনটি সিলেটে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্রের নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ওই  আদালত পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য আদেশ দেয়।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ৩য় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডি সিলেট অঞ্চলের সিনিয়র এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল।

অভিযোগপত্রে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছ, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরীসহ নতুন ১১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

একই সঙ্গে আগের অভিযোগপত্র থেকে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।

ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর আদালত সংশোধিত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।

মামলাটি এখন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আছে।

আসামিরা কে কোথায়

কিবরিয়া হত্যা মামলার ৩২ আসামিদের মধ্যে বিএনপি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নান, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ কারাগারে রয়েছেন ১৪ জন। জামিনে রয়েছেন আব্দুল কাইয়ুমসহ আট জন। পলাতক রয়েছেন হারিছ চৌধুরীসহ ১০ জন।

কিবরিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী

১৯৩১ সালের ১ মে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জালালশাপ গ্রামে শাহ এ এম এস কিবরিয়া জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা শাহ ইমতিয়াজ আলী ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিবরিয়া ১ম শ্রেণিতে ১ম হয়ে অর্থনীতিতে সম্মান এবং ১৯৫৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ম শ্রেণিতে ১ম হয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় ১ম স্থান অর্জন করে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন।

ভাষা আন্দোলনে কাজ করার জন্য ১৯৫৩ সালে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং দলের উপদেষ্টা মনোনীত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like