অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না, পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

pm_BG1_326739554

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর: পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কখনো কারো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না, সে যতো বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন। নির্যাতিত মানুষের পক্ষে থাকবেন, জনকল্যাণে কাজ করবেন।

প্রভাবশালী কেউ প্রভাব বিস্তার করে অন্যায়-অপকর্ম করতে চাইলে বা পুলিশকে ব্যবহার করতে চাইলে সরাসরি তাকে জানানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করেও যদি কউ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর প্রভাব খাটায়, ছাড় দেবেন না। সরাসরি আমাকে জানাবেন। সরাসরি যোগাযোগের সে ব্যবস্থাও আমি রেখেছি।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কল্যাণ, জনগণের মঙ্গলই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। আর সেটি করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে হবে। সে দায়িত্ব সার্বিকভাবে পুলিশের ওপরই পড়ে।

পুলিশ যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য তাদের সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার। সরকার সেসব ব্যবস্থা করেছে। পুলিশ বাহিনীর কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় কি করতে হবে, সেটা আমরা জানি। তাই সরকারের কাছে কোনো দাবি করতে হয় না। দাবি ওঠার আগেই তা পূরণ করি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের হরতাল-অবরোধের নামে নৃশংসতা মোকাবেলা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থীদের দমনে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বোমা হামলা মামলার তদন্তেও পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন আপনারা। আপনাদের ভূমিকায় জুয়া-চোরাচালান, নারী ও শিশু চালান আমরা বন্ধ করতে পেরেছি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।

দেশের জিডিপির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ করার পেছনে পুলিশ বাহিনীরও অবদান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জন করবো।

এ সকল কারণে আপনাদের ওপর জনগণের আস্থা বেড়েছে। পাশাপাশি আপনাদের দায়িত্বও বেড়েছে বহুগুণে উল্লেখ করে মানুষের সে আস্থা-বিশ্বাস বজায় রাখতে পুলিশকে সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পুলিশের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। পুলিশের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি। ঝুঁকিভাতার প্রচলন করেছি। কল্যাণ ফান্ড গঠন করেছি। রেশন বাড়িয়েছি। নতুন নতুন থানা ও ব্যারাক নির্মাণ করেছি। রাজারবাগে ১০ তলা বিল্ডিং করেছি। পুলিশের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন সংগ্রহ করেছি। আমাদের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশের উন্নয়নে গত ৭ বছরে আমাদের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে পুলিশের জনবল আজ দেড় লক্ষাধিক। আমরা জনবল আরও বৃদ্ধি করবো।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৯টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃষ্টি করেছি। পরবর্তীতে আরও ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেই। এর মধ্যে ২৭৭টি ক্যাডার পদসহ ১৩ হাজার ৫৫৮টি পদে পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জনবলের নিয়োগ কার্যক্রমও সম্পন্ন হবে। পুলিশের অপারেশনাল ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য বর্ধিত জনবলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিও আমরা সরবরাহ করবো।

ইতোপূর্বে আমরা আইজিপি’র র‌্যাংক ব্যাজ পুনঃপ্রবর্তন করেছি। আইজিপি’র পদ ছাড়া পুলিশে আরও ২টি গ্রেড-১ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ব্যাপক পদোন্নতি দিয়েছি। রংপুর রেঞ্জ, রংপুর রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স, দু’টি র‌্যাব ব্যাটালিয়নসহ আমরা বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট- স্পেশাল সিকিউরিটি প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, গঠন করেছি। আমরা ৩১টি নতুন থানা ও ৭০টি তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছি। থানাগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা পদায়ন করা হচ্ছে। পুলিশের আবাসন, অফিসের স্থান সংকট নিরসনে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আগে আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ছিলো না। এখন সেই সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পেরেছি।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৬ জন বীর সদস্য জীবন দিয়েছেন। যার মধ্যে ২১ জন পুলিশ সদস্য। আমি পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শহীদ সদস্যদের বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

সরকার উৎখাতের নামে গত বছরের তিন মাস যে সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত, পুলিশ সে পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন রক্ষার জন্য আপনাদের আত্মত্যাগ এক বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী বিভিন্ন আসনের উপ-নির্বাচন, চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দেওয়ায় পুলিশ বাহিনীর সকলকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সকল সংকট কাটিয়ে তুলে আমরা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তার সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মাণ করে আপনারা দেশের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন-এ আমার প্রত্যাশা।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like