সোহেল তাজ: মন্ত্রী না দলীয় পদ?

PM_Sohel-Tajপূর্বপশ্চিম : শনিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোহেল তাজের সাক্ষাতের ঘটনা নানা গল্পের অবতারণা করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণের আভাস।

সাক্ষাতের পরদিন রোববার এ নিয়ে বেশ সরব দেখা গেছে মন্ত্রণালয়, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।নানা ধরনের আলোচনায় মুখর ছিলেন নানাজন।

যদিও সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন শনিবার রাতে বলেন, দেশে ফিরলেই সোহেল তাজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এবারও সেভাবেই দেখা করেছেন।

কিন্তু বিভিন্ন সূত্র সেটি মানতে নারাজ। তাদের মতে, এবারের দেখা অন্যবারের মতো নয়।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের এক মন্ত্রী ও দুই জ্যেষ্ঠ নেতার কাছে জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে পূর্বপশ্চিমকে বলেন, বিষয়টি ইতিবাচক। আমরাও চাই তিনি ফিরে আসুক। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।

রোববার মন্ত্রনালয় ঘুরে শোনা গেছে, সোহেল তাজ আবারও মন্ত্রীত্ব পেতে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আগের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিংবা পূর্ণ মন্ত্রীর পদও পেতে পারেন।

এমন আভাসও রয়েছে. জাতীয় পার্টির তিন মন্ত্রী পদত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে সেখান থেকে একটি পেতে পারেন চার জাতীয় নেতার অন্যতম তাজউদ্দিনের ছেলে সোহেল তাজ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অসমর্থিত সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোহের তাজ ও তার দুই বোনের শনিবারের সাক্ষাতের বিষয়টি অন্যান্যবারের দেখা করার মতো মনে হয়নি। এবারের দেখাতে কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করে। কারণ অনেক বেশি প্রানবন্ত ছিল সাক্ষাৎ। আবেগপ্রবণ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও।

সুত্রগুলো বলছে, এই সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার অনেকিই চান সোহেল তাজের মতো তরুন ও ক্লিনইমেজের নেতৃত্ব দলে ও মন্ত্রীসভায় আসুক।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মার্চে কাউন্সিলকে সামনে রেখে হঠাৎ সোহেল তাজের এই সাক্ষাৎ আওয়ামী লীগ দলীয় নেতৃত্বে কিছুটা পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

তাদের মতে, কাউন্সিলের মাধ্যমে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপুর্ণ পদও পেতে পারেন। কেননা তার ব্যাপারে অনেক জ্যেষ্ঠ্য নেতাদেরও আগ্রহ রয়েছে।

তা ছাড়া খোদ প্রধামন্ত্রী নিজেও এবারের কাউন্সিলে ‘চমক’ আছে বলে বিভিন্ন সভায় বলেছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত এক বছর ধরেই সোহেল তাজকে রাজনীতিতে ফেরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

ফলে শনিবার রাতে সোহেল তাজ এবং তার দুই বোন মাহজাবিন আহমদ মিমি ও গাজীপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ সিমিন হোসেন রিমির সাক্ষাতের বিষয়টি সাধারণ দৃষ্টিতে দেখতে নারাজ মহলগুলো।

তাদের মতে, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছে সোহেল তাজেরও রয়েছে। এ দফায় তাই তার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে তার প্রতি প্রধানমন্ত্রী কিছুটা ইতিবাচক বলেই মনে হয়েছে সবার কাছে।

উল্লেখ্য, সোহেল তাজ ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে আমেরিকায় চলে যান। এরপর তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে বিজয় লাভ করার পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় সোহেল তাজকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর পাঁচ মাসের মাথায় ২০০৯ সালেই তিনি পদত্যাগ করেন।

ওই বছর ৩১ মে  মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যগ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। ওই চিঠিতে সোহেল তাজ বলেন, “২০০৯ সালের ৩১ মে বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাতে আমার পদত্যাগপত্র দিই। ১ জুন আবারো সেই পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাই। এরপর থেকে অদ্যাবধি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি কোথাও কোনো কিছুতে স্বাক্ষর করিনি।” সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ। পদত্যাগের পর কাপাসিয়াবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠিও লেখেন তিনি।

রাজনীতিতে সোহেল তাজ দ্রুতই এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, তরুণ, উদ্যমী, মেধাবী ও একজন প্রতিশ্রুতিশীল নেতা হিসেবে তিনি দল ও মানুষের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এ কারণেই তাকে দলের রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like